ঢাকা: শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই দক্ষিণ এশিয়ার বায়ুমণ্ডলে জেেকে বসেছে বিষাক্ত ধোঁয়াশা আর দূষণের চাদর।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ) সকাল ৯টার সবশেষ তথ্য অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের রিয়েল-টাইম বৈশ্বিক প্রধান শহরগুলোর র্যাংকিং অনুযায়ী, বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরগুলোর তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক শহর লাহোর। এই তালিকায় এর পরেই রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি এবং কলকাতা। অন্যদিকে, পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না করা এবং প্রাক-শীতকালীন পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বায়ুর মানও অবনতির দিকে রয়েছে। সাম্প্রতিক লাইভ র্যাংকিংয়ে ঢাকার অবস্থান তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে এবং এর স্কোর ১৭০, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মতে অপরিকল্পিত নগরায়ন, যত্রতত্র ভবন নির্মাণ কাজের ধুলা, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং চারপাশের বিভিন্ন উৎস থেকে ছড়ানো ক্ষতিকর ধূলিকণা মূলত ঢাকার পরিস্থিতির জন্য দায়ী। এছাড়া ভৌগোলিক অবস্থান ও ঋতু পরিবর্তনের কারণে শীতকালে বাতাসের গতিবেগ কমে যাওয়ায় দূষিত কণাগুলো সহজে শহর ছেড়ে দূরে যেতে পারে না, বরং তা শহরের ওপরের স্তরে স্থায়ীভাবে জমা হতে থাকে। এর ফলে শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্ত সংবেদনশীল মানুষেরা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়েন।
এই মারাত্মক বায়ুদূষণ রোধে এবং নগরবাসীকে রক্ষা করতে জরুরি ভিত্তিতে বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে নির্মাণ সাইটগুলোতে নিয়মিত পানি ছিটানো ও ঢেকে রাখা, কালো ধোঁয়া উদগারকারী ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা, অবৈধ ইটভাটা বন্ধে জোরালো অভিযান পরিচালনা করা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে দীর্ঘ সময় যানজটে গাড়ি স্টার্ট অবস্থায় রাখা কমানো। একইসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সবুজায়ন বৃদ্ধি করা না গেলে দক্ষিণ এশিয়ার এই জনবহুল শহরগুলোতে বায়ুমানের এই চরম বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব হবে না।