Thursday 05 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ডেপুটি স্পীকারের সঙ্গে চার্চ অব ইংল্যান্ডের ফরেন পলিসি এ্যাডভাইজারের সাক্ষাৎ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৫ নভেম্বর ২০২৬ ২২:০৩

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা:  জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিষ্টার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চার্চ অব ইংল্যান্ডের ফরেন পলিসি এ্যাডভাইজার ড. চার্লস রীড।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পীকারের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনের গভর্ন্যান্স এ্যাডভাইজার শাহনাজ করিম ও সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট এ্যাডভাইজার তাহেরা জাবীন, এফওআরবি প্রজেক্টের ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটির রুহী নাজ ও সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শশাঙ্ক বরণ রায় উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে ড. চার্লস রীড এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিদল বলেন- সম্প্রতি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত দুর্গাপূজায় বর্তমান সরকার যে সহযোগিতা, নিরাপত্তা ও সার্বিক সহায়তা প্রদান করেছে, তা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনে সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ ও সহযোগিতা প্রশংসার দাবিদার। এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিবেশকে আরও সুদৃঢ় করে। তারা বলেন, সকল ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে পালনের সুযোগ নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশ সরকারের এ ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তারা ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি জোরদারে সংসদীয় পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার বিষয়ে তাদের আগ্রহের কথা জানান। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে একটি ‘ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা বিষয়ক পার্লামেন্টারি ককাস’ গঠনের বিষয়ে তারা ডেপুটি স্পীকারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আমরা সকল ধর্মের মানুষের উৎসব অত্যন্ত সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উদযাপন করি। আমাদের কাছে সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বলে কোনো বিভাজন নেই। এ দেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করেছে। সকল ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষ এ দেশের সমান নাগরিক।
তিনি বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা সমুন্নত রাখতে সংসদ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস ও স্বাধীনতা বিষয়ে পার্লামেন্টারি ককাস গঠন এক্ষেত্রে একটি চমৎকার উদ্যোগ হতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নীতি প্রণয়নে সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব যা সহনশীল সমাজ প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
ডেপুটি স্পীকার আরও বলেন, বর্তমান সংসদে সকল সংসদ সদস্যের মতামত ও কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এটি বর্তমান সংসদের একটি গুরুত্বপূর্ণ চর্চা, যা অতীতে সেভাবে দেখা যায়নি। সংসদে ভিন্নমত ও বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গঠন করতে চাই, যেখানে এই দেশের প্রতিটি মানুষ শান্তিতে নিঃশ্বাস নিতে পারবে; প্রত্যেক মানুষ তার ধর্মীয় বিশ্বাস ও মতাদর্শ স্বাধীনভাবে ধারণ ও পালন করতে পারবে এবং সকলের অধিকার ও মর্যাদা সমানভাবে সুরক্ষিত থাকবে।
উভয় পক্ষ ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সংসদীয় পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার এবং সংসদীয় কার্যক্রম, সুশাসন ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
সারাবাংলা/এফএন/এসআর
বিজ্ঞাপন

আরো