Friday 06 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ছুটির দিনেও সকাল থেকেই ‘অস্বাস্থ্যকর’ ঢাকার বাতাস

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৬ নভেম্বর ২০২৬ ১৯:৫৩
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঢাকা :  আধুনিকতার অগ্রগতি আর উন্নয়নের চাকা ঘোরাতে গিয়ে আমরা প্রতিদিন যে কয়লা, তেল আর কাঠ পোড়াচ্ছি, তার খেসারত দিতে হচ্ছে কোটি কোটি মানুষকে। বায়ুদূষণ আজ কেবল পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি মানবসভ্যতার অস্তিত্বের জন্য এক নীরব মহামারী।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (আইকিউএয়ার)-এর তথ্য অনুযায়ী,  ৬ নভেম্বরের দুপুরে তথ্য অনুযায়ী ভারতের কলকাতা ১৮৮ স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করলেও, ঠিক কাছাকাছি অবস্থানে ছিল দিল্লি (১৮৫) ও পাকিস্তানের লাহোর (২৭৫)। প্রতিবেশী এই শহরগুলোর ঠিক পরেই, ১৫৮ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে ছিল আমাদের রাজধানী ঢাকা।

আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ স্কোর ‘ভালো’, ৫১ থেকে ১০০ ‘সহনীয়’, ১০১ থেকে ১৫০ ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’, আর ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। সেই হিসেবে ঢাকার ১৫৮ স্কোর জানান দেয় যে এখানকার বাতাস জনস্বাস্থ্যের জন্য কতটা বিপজ্জনক। অথচ একই দিনে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড মাত্র ৪ স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বিশুদ্ধ বাতাসের শহরের খেতাব অর্জন করেছে। এই ব্যবধানই বলে দেয় উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের মধ্যকার পরিবেশগত নীতি ও সচেতনতার কত বড় ফারাক রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বায়ুদূষণের এই মহাদুর্যোগের পেছনে রয়েছে বহুমুখী কারণ। অপরিকল্পিত নগরায়ন, কলকারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া, ফিটনেসবিহীন পুরোনো যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া এবং যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা পোড়ানো। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে ইটভাটার কার্যক্রম এবং বড় বড় নির্মাণকাজের ধুলাবালি পরিস্থিতিকে আরও অসহনীয় করে তোলে। ঢাকা, দিল্লি বা লাহোরের ভৌগোলিক অবস্থান এবং আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতিও এই দূষিত কণাগুলোকে সহজে সরে যেতে দেয় না।

বায়ুদূষণের কারণে সৃষ্ট অতিক্ষুদ্র ধূলিকণা বা পিএম ২.৫ (PM2.5) সহজেই মানুষের ফুসফুস ভেদ করে রক্তপ্রবাহে মিশে যায়। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে হাঁপানি, ব্রংকাইটিস, ফুসফুসের ক্যান্সার, হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। গর্ভવતી নারীদের ওপর এর প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও ক্ষতিকর।

এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে হলে কেবল সাময়িক পদক্ষেপে কাজ হবে না। দরকার দীর্ঘমেয়াদী ও কঠোর পরিকল্পনা: গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রচলন করা।  কলকারখানায় আধুনিক ফিল্টার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং সনাতন পদ্ধতির ইটভাটা বন্ধ করে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির বিস্তার ঘটানো।  নিয়মিত রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা এবং নির্মাণাধীন ভবনগুলো ঢেকে রেখে কাজ করা। শহরে সবুজায়ন বাড়ানো এবং জলাধারগুলো রক্ষা করা, যা প্রাকৃতিকভাবে বাতাসকে বিশুদ্ধ করতে সাহায্য করে।

বায়ু কোনো সীমানা মানে না। এক দেশের ধোঁয়া বা দূষণ সহজেই অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে। তাই কেবল একক কোনো দেশের পক্ষে এই সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়াতে হবে। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই আমাদের শ্বাস নেওয়ার অধিকার ফিরিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ শুরু করতে হবে।

সারাবাংলা/এফএন