Friday 06 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান শফিকুর রহমানের

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৬ নভেম্বর ২০২৬ ১৯:৫১

ঢাকা: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনা ধারণ করে দেশে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের প্রকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেছেন, ‘৭ নভেম্বরের চেতনা হচ্ছে অন্যায়-অবিচার, একনায়কতন্ত্র ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেতনা। জনগণের মনের ভাষা বুঝে দেশ পরিচালনা করতে হবে। যারা জনগণের প্রত্যাশা ও অধিকার উপেক্ষা করবেন, ইতিহাস তাদের কাউকে ক্ষমা করবে না।’

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের কবর রচনা করা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত করা, বিরোধী মত দমন, দুর্নীতি, লুটপাট ও বিনা বিচারে হত্যার মাধ্যমে জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এসব দুঃশাসন ও একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ থেকেই ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ তৈরি হয়।’

তিনি বলেন, ‘৭ নভেম্বর সিপাহিরা বিপ্লব সংঘটিত করেছিলেন, আর সাধারণ জনগণ তাতে সংহতি প্রকাশ করেছিল। স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে কৃতিত্বের লড়াই না করে যার যেখানে অবদান, তাকে যথাযথ স্বীকৃতি দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব ও অবদানের স্বীকৃতি কোনো ব্যক্তি বা দলের একক সম্পত্তি হতে পারে না।’

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গণভোটের রায় এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি বাতিলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসনে ফিরে যাওয়ার পথ তৈরি করা হচ্ছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের পরিবর্তে দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হলে তা যুবসমাজের প্রতি অবিচার হবে।

বিরোধীদলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ন্যায়সংগত বিষয়ে সরকারকে সহযোগিতা করবেন, অন্যায় হলে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করবেন। সাত দফা দাবি কোনো দলের একক দাবি নয়, এগুলো জনগণের দাবি। ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট দলের নাম নয়, এটি একটি মানসিকতা। যে কেউ ক্ষমতায় গিয়ে এ মানসিকতায় আক্রান্ত হতে পারে।’

সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি বা সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না। আধিপত্যবাদের প্রভাবমুক্ত স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত এবং চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত তাদের রাজনৈতিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘৭ নভেম্বরকে শুধু সামরিক ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর পেছনে ছিল একদলীয় শাসন ও মানুষের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনমনের ক্ষোভ। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন। চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, সিন্ডিকেট ও দলীয়করণ অব্যাহত থাকলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে না।’

সভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এমএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর