দুর্দান্ত ফর্মে থাকা বাংলাদেশি পেসার হাসান মাহমুদ আজ বল হাতে আরেক ইতিহাস গড়েছেন। একাই ৬ উইকেট তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন। তবে অন্য বোলাররা সেভাবে সঙ্গ দিতে না পারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস সাড়ে তিনশ ছাড়িয়ে যায়। পরে বাংলাদেশের ব্যাটিংটাও ভালো হয়নি।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৮৮ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস শেষ পর্যন্ত থেমেছে ৩৫৬ রানে। যাতে বাংলাদেশ এখনো ২৬৮ রানে পিছিয়ে, হাতে আছে ৭ উইকেট। আউট হয়েছেন নাঈম হাসান, তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত।
নাঈম হাসানের নাম শুনে হয়ত অবাক হচ্ছেন! বিষয়টা হলো- ফিল্ডিংয়ের সময় বাংলাদেশের ওপেনার সাদমান ইসলাম অনিক পায়ে চোট পান। পরে তাকে হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলে ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি সাদমান। ফলে তার জায়গায় ওপেনিংয়ে তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গে ব্যাট করতে নামেন স্পিনার নাঈম হাাসান। দুজনের একজনও অবশ্য সুবিধা করতে পারেননি।
তানজিদ হাসান তামিম মিরপুর টেস্টের মতো সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসেও ব্যর্থ। ফিরেছেন ৩৩ বলে ১৬ রান করে। নাঈম ফিরেছেন তারও আগে, ৭ বলে ৬ রান করে। তিনে নেমে নাজমুল হোসেন শান্ত থিতু হওয়ার চেষ্টা করেছেন, হয়েছিলেনও। কিন্তু ইনিংস লম্বা করতে ব্যর্থ। ৬৫ বলে ১টি কারে চার-ছয়ে ফিরেছেন ১৮ রান করে।
তারপর দিনের বাকিটা সময় অবশ্য উইকেট পতন হতে দেননি মুশফিকুর রহিম ও তাওহিদ হৃদয়। ৮০ বলে ২৯ রান করে অপরাজিত হৃদয়। তার সঙ্গে ৫৬ বলে ১৯ রানে অপরাজিত মুশফিকুর রহিম।
এর আগে আলো ছিল হাসান মাহমুদদের ওপর। অনেকদিন ধরেই দুর্দান্ত ফর্মে থাকা বাংলাদেশি পেসার ঝলক দেখিয়েছেন সিলেট টেস্টেও। সিলেটে প্রথম ইনিংসে তুলে নিয়েছেন ৬ উইকেট। এ নিয়ে ১৯ টেস্টের ক্যারিয়ারে ৫ বার পাঁচ উইকেট পেলেন হাসান। বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে এখন তিনিই সবচেয়ে বেশি পাঁচ উইকেট পাওয়া পেসার। আগে রেকর্ডটি ছিল শাহাদাত হোসেন রাজিবের। ৩৮ টেস্টে ৪ বার পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন রাজিব।
আজ দ্বিতীয় দিন সকালে নতুন বল হাতে নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন হাসান। নিজের প্রথম ওভারেই টানা দুই বলে জাঙ্গু ও অধিনায়ক রোস্টন চেজকে ফিরিয়ে দেন তিনি। জাঙ্গুর ১৩৩ রানের ইনিংস থামে বোল্ড হয়ে, পরের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন চেজ।
পরের বলেই জশুয়া বিশপকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেছিলেন হাসান। আম্পায়ার আঙুল তুললেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান ক্যারিবীয় ব্যাটার। বল ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে প্যাডে আঘাত করায় হাতছাড়া হয় হ্যাটট্রিক। তবে তাতে হাসানের দাপট থামেনি। পরে বিশপকে স্টাম্পিং করিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। এরপর শামার জোসেফকে ফিরিয়ে নিজের উইকেট সংখ্যা ছয়ে নিয়ে যান বাংলাদেশের এই পেসার।