Sunday 08 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

জাতীয় সংগীত অবমাননা: ক্ষমা চাইতে পরীমণিকে লিগ্যাল নোটিশ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৮ নভেম্বর ২০২৬ ১২:৪০ | আপডেট: ৮ নভেম্বর ২০২৬ ১৪:১৪

চিত্রনায়িকা পরীমণি

ঢাকা: জাতীয় সংগীত অবমাননা এবং সাংবাদিক হয়রানির জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে অভিনেত্রী পরীমণিকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার।

রোববার (৮ নভেম্বর) শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমণি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক-এর ঠিকানায় এই নোটিশ পাঠানো হয়।

নোটিশে আগামী ৭ দিনের মধ্যে চিত্রনায়িকা পরীমণিকে আদালত প্রাঙ্গণে সংঘটিত ঘটনার জন্য লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সকল প্রকার অশ্লীল কথা বা সংলাপ, হুমকি প্রদান, অশ্লীল অভিনয়, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি, অশ্লীল নগ্ন বা অর্ধনগ্ন নৃত্য যা চলচ্চিত্র, ভিডিও চিত্র, অডিও ভিজ্যুয়াল চিত্র, স্থির চিত্র, গ্রাফিকস বা অন্য কোনো উপায়ে ধারণকৃত ও প্রদর্শনযোগ্য এবং যার কোনো শৈল্পিক বা শিক্ষাগত মূল্য নেই- তা করা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া, নোটিশে আগামী ৭ দিনের মধ্যে শোকজ নোটিশ প্রদানপূর্বক চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমণি গত ৫ নভেম্বর ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা একটি মামলায় আত্মসমর্পণ করে আদালত থেকে জামিন পান। সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে গাড়ি থেকে নেমে এজলাসের দিকে যাওয়ার সময় পরীমণির সাথে সাংবাদিকেরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে চাইলে তার নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের ধাক্কাধাক্কি হয়। ওই সময় শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমণি একটি দৈনিক পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইনের মুঠোফোন কেড়ে নেন। এমনকি তার ভিডিও ধারণের কাজে ব্যবহৃত ট্রাইপডটি পরীমনির সঙ্গে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা ভেঙে ফেলেন। আদালত প্রাঙ্গণে ওই দিনের ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় সাংবাদিক আশিকুজ্জামান, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল কাউছার, সিয়াম হোসেন, শাহ রিয়াজ আহত হন। সেদিন সুজন চন্দ্র মণি দাস নামের একজন বিচারপ্রার্থীও আহত হয়েছেন। ওই ব্যক্তির মাথা ফেটে রক্ত বের হয়েছে বলেও মিডিয়াতে সংবাদ প্রচারিত হয়েছে। আদালত প্রাঙ্গণে প্রত্যেকের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্র ও প্রশাসনের কাজ। তাই ব্যক্তিগত একাধিক নিরাপত্তাকর্মী দিয়ে আদালতের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ বা পেশিশক্তি প্রদর্শনের কোনো সুযোগ আইনে কারো নেই।

লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়েছে, পরবর্তীতে পরীমণি আদালত থেকে বের হয়ে আদালত প্রাঙ্গণে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইন, যার ডান হাত পুরোপুরি রিজার্ভ (ডান হাত জন্মগতভাবে বাঁ হাতের তুলনায় ছোট, হাতের তিনটি আঙুল নেই, এই হাত দিয়ে স্বাভাবিক কাজকর্ম তিনি করতে পারেন না) দিকে তেড়ে গিয়ে বলেন ‘এদিকে আয়। আমার হাত এভাবে ধরলি কেন?’ এসময় অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করার পাশাপাশি ‘তোকে পাড়িয়ে মেরে ফেলবো’ বলে হত্যার হুমকি প্রকাশ্য প্রদান করেছেন যার ভিডিওচিত্র মিডিয়াতে প্রচারিত হয়েছে। একজন পেশাগত সাংবাদিকের সঙ্গে পরীমনির এমন আচরণ শুধু তার পেশাগত মর্যাদার ওপর আঘাত নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের দায়িত্ব পালনের পরিবেশের জন্যও হুমকিস্বরূপ। পরীমনি-এর মতো একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর কাছ থেকে এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই কাম্য নয়।

আইনি নোটিশে আরো বলা হয়েছে, পরীমণি তার নিজস্ব ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে গত ৬ নভেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত মিউজিক হিসেবে ব্যবহার করে ‘সাউয়া মাউয়া ছিররা ফালাইতে হবে খানকির পোলাদের ……. আমাদের সহিদ ভাই শিখায়ে দিয়ে গেছে তো! তাই না?’ এই কথা লিখে পোস্ট করেন। এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম খবর প্রকাশ করেছে এবং সেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ারও করা হয়েছে। পোস্ট হওয়া খবরের কমেন্ট বক্স ভরে গেছে নানারকম নেতিবাচক মন্তব্যে।

অ্যাডভোকেট খন্দকার হাসান শাহরিয়ার আইনি নোটিশে বলেন, আপনি শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমণি একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিধায় অনেকেই আপনার আচার আচরণ, অঙ্গভঙ্গি, কথাবার্তা, চাল চলন, নাচ, পোশাক, চলাফেরা অনুকরণ ও অনুসরণ করে থাকে। ফলে আপনার অশ্লীল বাক্য, অঙ্গভঙ্গি, সাংবাদিককে আদালত প্রাঙ্গণে হত্যার হুমকি দেওয়া, জাতীয় সংগীতের সঙ্গে অশ্লীল পোস্ট প্রদানের মতো বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিশু-কিশোর ও তরুণরা এই আচরণ দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। টেলিভিশন, কম্পিউটার ও মোবাইলে এসব আলোচিত ঘটনার ছবি বারবার ভেসে উঠছে। সেগুলো তারা দেখছে। এর ফলে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

লিগ্যাল নোটিশে তিনি আরও বলেছেন, শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমণি নিয়মিত বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করে সামাজিক অস্থিরতা তৈরির পাশাপাশি বাংলাদেশের সমাজ, সংস্কৃতির সুন্দর ঐতিহ্য নষ্টের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। যেহেতু পরীমণি বাংলাদেশের সংস্কৃতি অঙ্গনের একজন চলচ্চিত্র শিল্পী, সেই হিসেবে সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণ তার কাছে সকলেই প্রত্যাশা করে।

এতে আরও বলা হয়, শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনি কর্তৃক আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিক হেনস্তা ও হত্যার হুমকি প্রদান এবং ফেসবুকে জাতীয় সংগীতের সাথে অশ্লীল বাক্যের পোস্ট দেওয়ার পরেও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক কোনো প্রকার সাংগঠনিক কিংবা আইনগত শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। ফলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ভাবমূর্তি ও সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর