Sunday 08 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

অক্টোবরে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে ৪.৩৯ শতাংশ


৮ নভেম্বর ২০২৬ ১৬:৪০

– ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত

ঢাকা: সমাপ্ত অক্টোবরে দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে গড়ে ৪.৩৯ শতাংশ। ১৫টি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে গড়ে ৪ দশমিক ৩৯ ভাগ। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে মাছের দাম।

ভোক্তা অধিকার বিষয়ক সংগঠন ‘কনজুমারস ফোরাম’ (সিএফ) -এর তৈরি করা সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের বাজার তথ্যে এ চিত্র দেখা গেছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) সিএফ-এর সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন মালেক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, মেরাদিয়া, আফতাবনগরের ভূইয়া বাজার, মিনাবাজার ও স্বপ্ন সুপার শপ থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরেজমিন তথ্য নিয়ে গত অক্টোবরে ১৫ ধরনের পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া গেছে। এই ১৫টি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে গড়ে ৪ দশমিক ৩৯ ভাগ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে মাছের দাম। গড়ে মাছের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ১১ দশমিক ৭২ ভাগ এবং মসল্লার মধ্যে লং, এলাচ, দারুচিনি, জিরায় বৃদ্ধি পেয়েছে ১০ দশমিক ৩০ ভাগ। পেঁয়াজ, রসুন, আদায় বৃদ্ধি পেয়েছে ৭ দশমিক ৭৯ ভাগ। এছাড়াও জ্বালানি তেলে বৃদ্ধি পেয়েছে ৬ দশমিক ০২ ভাগ, চিনি বৃদ্ধি পেয়েছে ৪ দশমিক ৯৩ ভাগ, ভোজ্য তেল ও ডালডায় বৃদ্ধি পেয়েছে ৪ দশমিক ৮০ ভাগ, চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে গড়ে ২ দশমিক ৬২ ভাগ, আটা-ময়দায় বেড়েছে ৩ দশমিক ২৫ ভাগ, ডিমের দাম আবারো বৃদ্ধি পেয়েছে ১ দশমিক ৪২ ভাগ, চায়ের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে শূন্য দশমিক ১৪ ভাগ এবং মাংসের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৩৮ ভাগ।

বিজ্ঞাপন

অপরদিকে, ৭টি পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। এগুলো হচ্ছে লবন, দুগ্ধজাত পণ্য, ব্রাশ-ট্রুথপেস্ট, চানাচুর-বিস্কুট, নিত্যব্যবহৃত ১১টি ব্রান্ডের ওষুধ এবং খাতা কলম।

অন্যদিকে, দুটি পণ্যের দাম কমেছে, যেমন- শাঁক-সবজি ৩ দশমিক ১২ শতাংশ এবং সোনা-রূপায় কমেছে ৪ দশমিক ৭৭ ভাগ। যশোর, বগুড়া ও রংপুর এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শীতকালিন শাঁক-সবজি বাজারে উঠতে শুরু করেছে। কৃষি পণ্যের উৎপাদনকারীরা বলছে, তাঁরা উৎপাদন খরচ শাঁক-সবজি বিক্রি করে উঠাতে পারছে না। বগুড়া, রংপুরে প্রতিটি ফুল ও বাধাকপি ৬ থেকে ১২ টাকা, মূলা ৬ থেকে ৮ টাকা, লাউ একটা ৮ থেকে ১০ টা, কলার হালি ৫-৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একই পণ্য ঢাকায় বিক্রি হচ্ছে, ফুল ও বাধাকপি ৫০ টাকা, পেপে ৩০ টাকা, মূলা ৩০ টাকা, লাউ ৬০ টাকা ও কাঁচকলার হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

গত সেপ্টেম্বরে নিত্যপণ্যের মূল্য বেড়েছিল ৩ দশমিক ১৩ ভাগ। আর অক্টোবরে আরও বেড়েছে ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এ হিসাবে গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর এই দুই মাসেই নিত্যপণ্যের মূল্য বেড়েছে ৭ দশমিক ৫২ ভাগ। এভাবে লাগামহীনভাবে পণ্য মূল্য বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম হবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শুধু বেতন ভাতা বাড়ালে চলবে না। এর সাথে শহর-নগরে বাড়ি ও দোকান ভাড়া, শিক্ষা ব্যয়, চিকিৎসা ব্যয়সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মধ্য ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর নাগালের মধ্যে রাখতে হবে। একইসাথে মাত্রাতিরিক্ত মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের লাগাম টেনে ধরা না গেলে জনমনে বিরূপ প্রভাব পড়বে। প্রয়োজনে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সাধারণ জনগনের নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণ ব্যয় ক্রয়সীমার মধ্যে রাখতে হবে।

ভোক্তা অধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা আশা করি, সরকার গ্রাম পর্যায়ে উৎপাদিত কৃষি পণ্যের উৎপাদন ও ভোক্তা পর্যায়ে মূল্য সহনীয় রাখতে কার্যকর বাজার মনিটরিং-এর ব্যবস্থা করবেন। পাশাপাশি পণ্যমুল্য জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে বাজার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন।