ঢাকা: নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান ছাড়া সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়- বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেছেন, কোথায় অগ্রগতি হয়েছে, কোথায় ভুল রয়েছে এবং কোন জায়গায় সংশোধন প্রয়োজন—তা নির্ধারণে সঠিক তথ্যের বিকল্প নেই। তথ্যের বিকৃতি হলে সরকার ভুল পথে পরিচালিত হতে পারে এবং উন্নয়নের উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
রোববার (০৮ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) কার্যালয়ে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সরকারের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কতটা হচ্ছে, তা মূল্যায়নের জন্য নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান প্রয়োজন। কোনো তথ্য বিকৃত হলে তার ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্তও ভুল হতে পারে। সরকার কোনোভাবেই তথ্য বিকৃত করতে চায় না।
পরিসংখ্যানের প্রতি মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে পরিসংখ্যান নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অসংগতি তৈরি হয়েছে। ফলে বর্তমানে সঠিক তথ্য প্রকাশ করা হলেও মানুষ সেটি কতটা বিশ্বাস করবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এই আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি জানান, অতীতের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) হিসাবের ভিত্তি ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করতে গবেষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) এর সহযোগিতায় পরিচালিত ওই গবেষণায় জিডিপি নিরূপণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু গলদ পাওয়া গেছে।চামড়া শিল্প প্রতিবেদন
তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশের পদ্ধতিতে পরিবর্তনের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগে ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রকাশে মন্ত্রীর স্বাক্ষর বা অনুমোদনের প্রয়োজন হতো। এখন কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড পদ্ধতিতে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তথ্য ডেটাবেজে যুক্ত হওয়ার পর তা প্রকাশ করা হচ্ছে। এতে তথ্য প্রকাশে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কিংবা ইচ্ছামতো পরিবর্তনের সুযোগ কমে গেছে।
জোনায়েদ সাকি বলেন, নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি তা সবার জন্য সহজলভ্য করাও জরুরি। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ ও গবেষণার সুযোগ শুধু সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। শিক্ষার্থী, গবেষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যেন এসব তথ্য ব্যবহার করতে পারেন, সেই সুযোগ তৈরি করতে হবে।
এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বর্তমানে এ জন্য প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরির কাজ চলছে। ভবিষ্যতে দেশের যেকোনো স্থান কিংবা বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে এসব তথ্য ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
তিনি আরও বলেন, তথ্য উন্মুক্ত হলে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরা নিজেদের মতো করে সেগুলো বিশ্লেষণ করতে পারবেন। এতে পরিসংখ্যানের ব্যবহার বাড়বে এবং একই সঙ্গে তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা ও মানুষের আস্থাও বাড়বে।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন উপস্থিত ছিলেন।
এবারের জাতীয় পরিসংখ্যান দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল—‘নির্ভরযোগ্য ও সহজলভ্য পরিসংখ্যান, টেকসই উন্নয়ন ও পরিকল্পনার ভিত্তি’।