Friday 06 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ফায়ার ফাইটারের মৃত্যুতে ব্যর্থতার দায় স্বীকার, বিচারের আশ্বাস স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৬ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৭:২৪
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঢাকা: সচিবালয়ে আগুন নেভাতে গিয়ে গাড়িচাপায় নিহত ফায়ার ফাইটার সোয়ানুর জামান নয়নের মৃত্যুর দায় স্বীকার করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আমরা ট্রাক চালককে ধরে ফেলেছি। তাকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।

একই সঙ্গে সোয়ানুর জামান নয়নের বাবা-মায়ের জন্য ভালো কিছু করার আশ্বাসও দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের সদর দফতরে ফায়ার ফাইটার সোয়ানুর জামান নয়নের জানাজা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সচিবালয়ে যখন আগুন লাগে তখন সেই জায়গার নিরাপত্তা না দিয়ে ট্রাক কেনো সেখানে চলছিল? এটা ব্যর্থতা কি না?— সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি বলবো যে এটা ব্যর্থতাই। কারণ ট্রাক সেখানে চলাচল করার কথা না।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘আমার একটা কর্মী মারা গেলো— এটা আমার জন্য একটা ব্যর্থতা না? আমি এর জন্য শোকাহত না? এর বিচার অবশ্যই হবে। ওর মা-বাবা কিন্তু সহজে এটা ভুলবে না। তারা তাদের সন্তানকে ভুলতে পারবেন না। তার মা বাবা যেন ভালোভাবে থাকতে পারেন সে বিষয়টা আমরা অবশ্যই দেখবো।’

ফায়ার ফাইটার কর্মী নয়নের জানাজা অনুষ্ঠিত।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের ফায়ার ফাইটার সোয়ানুর জামান নয়ন দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছেন। আমরা তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। তিনি কর্তব্যরত অবস্থায় মারা গেছেন। আমরা জানি আল্লাহ তাকে শহিদের মর্যাদা দান করবেন।’

তিনি বলেন, ২৪ বছর বয়সী সোয়ানুর জামান নয়ন দুই বছর ফায়ার সার্ভিসে কাজ করেছেন। তার বাবা-মায়ের যে কি রকম অবস্থা তা আপনারা সবাই বুঝতে পারছেন। তিনি ছিলেন পরিবারের ছোট সন্তান। সিলেটে তার পোস্টিং ছিল। কিছুদিন আগে তিনি ঢাকায় পোস্টিং হয়ে এসেছেন। তিনি খুব ভালো ফায়ার ফাইটার হওয়ার কারণে তাকে স্পেশাল টিমের জন্য আনা হয়েছিল। আমরা সবাই তার জন্য দোয়া করবো।’

আগুন নেভাতে এতো সময় কেনো লাগলো?— এমন প্রশ্নের উত্তরে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘আগুন নেভাতে কতক্ষণ লাগবে এটা তো আসলে এভাবে বলতে পারবো না। সেটা আগুনের ওপর নির্ভর করে এবং ফায়ার ফাইটারদের গাড়িগুলো যাওয়ার ওপরও অনেক সময় নির্ভর করে। পানি সরবরাহের ওপরও অনেক সময় নির্ভর করে। এছাড়া অনেক সময় অনেক ধরণের প্রতিবন্ধকতা থাকে—ওগুলোর ওপরও নির্ভর করে। এরা কিন্তু সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে এবং ১৯টা ইউনিট কাজ করেছে। এরপরে কিন্তু এই আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।’

আগুনের সূত্রপাত জানার জন্য একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি করা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পেলে সব জানা যাবে। আগুনের সূত্রপাত কিভাবে কোথা থেকে হয়েছে তা জানা যাবে।

দুইজন উপদেষ্টা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে জানিয়েছেন এটা ফ্যাসিস্ট সরকারের ষড়যন্ত্র হতে পারে। আপনার কাছে এমন কিছু মনে হয় কি না?— ‘সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তদন্তের আগে আমি কিছু বলতে পারবো না। যেহেতু আমরা কেবিনেট বিভাগ থেকে তদন্ত দল করে দিয়েছি তাই তাদের রিপোর্ট পাওয়ার পরেই সেই বিষয়ে বলতে পারবো। এখানে কিন্তু বিশেষজ্ঞ মন্তব্যও দরকার হবে।’

যেসব সিসি ক্যামেরা সচল ছিল সেগুলোর তথ্যও যাচাই করা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

এর আগে, সচিবালয়ে অগ্নিসংগঠিত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

উল্লেখ্য, বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) রাত ১টা ৫২ মিনিটে সচিবালয়ে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। সচিবালয়ে অবস্থিত ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটটি রাত ১টা ৫৪ মিনিট থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। আগুনের তীব্রতা বেড়ে গেলে একে একে ১৯টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে। শুরুতে আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য ৮টি ইউনিট কাজ করলেও পরে আরও ১১টি ইউনিট যুক্ত হয়।

সচিবালয়ের সাত নম্বর ভবনের ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম তলায় ছড়িয়ে পড়ে আগুন। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ বা ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। তবে ভবনে থাকা নথিপত্র পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন-

সারাবাংলা/এসবি/এমপি