Monday 21 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

জিয়াউর রহমানের আদর্শই বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল প্রেরণা: হেলাল

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:২৯
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

খুলনা: বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল প্রেরণা ছিল শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের সাহসী নেতৃত্ব, আপসহীন দেশপ্রেম ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে নিয়েছিল।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে খুলনার দিঘলিয়ায় আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

আজিজুল বারী হেলাল বলেন, ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি জন্মগ্রহণকারী জিয়াউর রহমান ছিলেন একাধারে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সফল রাষ্ট্রনায়ক ও গণমানুষের নেতা। সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় তিনি ‘বাংলার রাখাল রাজা’ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। বাংলাদেশের মানুষ কোনোদিন তার অবদান বিস্মৃত হবে না।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত জনগণের ওপর নির্বিচারে হামলা চালিয়ে ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা সংঘটিত করে, যা ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পরিচিত। সেই ভয়াল রাতে মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন, যা মুক্তিযুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জিয়াউর রহমান বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ লিবারেশন আর্মির অস্থায়ী সর্বাধিনায়ক মেজর জিয়া এতদ্বারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি।’ এই ঘোষণাই মুক্তিযুদ্ধকে সুসংগঠিত ও দিকনির্দেশনামূলক রূপ দেয় বলে উল্লেখ করেন হেলাল।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান ও তার নেতৃত্বাধীন মুক্তিযোদ্ধারা সম্মুখভাগে থেকে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী এলাকায় সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে কৌশলগত কারণে সীমান্ত অতিক্রম করে তিনি সংগঠিত যুদ্ধ পরিচালনা করেন। তিনি সেক্টর-১ ও সেক্টর-১১-এর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে জেড ফোর্সের ব্রিগেড কমান্ডার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৮ আগস্ট কুড়িগ্রামের রৌমারীতে প্রথম বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠার কথাও তুলে ধরেন আজিজুল বারী হেলাল।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বীরত্ব পদক ‘বীর উত্তম’-এ ভূষিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিঘলিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোল্লা সাইফুর রহমান মিন্টু। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন আজিজুল বারী হেলাল। আলোচনায় অংশ নেন সরকারি এম মজিদ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন, সরোয়ার খান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আলতাফ হোসেন, মোল্লা জালাউদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ মো. শামিম হোসেন এবং পথের বাজার মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম।

দোয়া পরিচালনা করেন জাকারিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা মুফতি আহম্মদুল্লাহ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সরোয়ার খান ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মনিরুল হক বাবুল ও সাবেক অধ্যাপক শেখ মুনিবুর রহমান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোজাম্মেল শরিফ, নাজমুল মোল্লা, মনির মোল্লা, রেজাউল ইসলাম রেজা, মো. রয়েল, হাসিবুর রহমান সাদ্দাম, কুদরতি ইলাহি স্পিকার, আব্দুল কাদের জনি, মনিরুল গাজী, টুটুল, হিমেল গাজী, মেহেদি, রফিকুল ইসলাম বাবু, কামাল হোসেনসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এদিকে খুলনার তেরখাদা ও রূপসা এলাকাতেও শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর