রাজবাড়ী: পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে বন্ধ রয়েছে রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া ও পাবনার নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ফেরি চলাচল। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এ নৌরুটে চলাচলকারী যাত্রী ও যানবাহনের চালকেরা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাটের সহব্যবস্থাপক রবিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ধাওয়াপাড়া ঘাটে থাকা ক্যামেলিয়া ও করবী দুটি ফেরির মধ্যে করবী দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। অপর ফেরি ক্যামেলিয়া নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে যানবাহন নিয়ে নিরাপদে পারাপার করতে পারছে না। ফলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুটের ফেরি সার্ভিস।
ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় ঘাটে আটকা পড়া যানবাহনগুলোকে ফিরে যেতে হচ্ছে। ঘাটে এসে ফেরি না পেয়ে অনেক যানবাহন ফিরে যাচ্ছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বিকল্প পথে যাতায়াত করছেন। এছাড়া যাত্রীদের বিকল্প পথে চলাচল করতে গিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া ও সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে দুর্ভোগের পাশাপাশি পরিবহন খরচও বেড়েছে।
ঘাটের স্থানীয় দোকানদার আজমল মন্ডল বলেন, এই ঘাটের করবী ফেরি দুই থেকে তিন মাস আগেই নষ্ট হয়ে বন্ধ হয়ে আছে। যে ফেরিটি চলত, সেটিও তিন দিন ধরে বন্ধ। এই ঘাটে প্রায়ই ফেরি চলাচলে সমস্যা হয়। ফেরিগুলো অনেক পুরোনো ও নিম্নমানের।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাটের সহব্যবস্থাপক রবিউল ইসলাম বলেন, পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফেরির চাহিদার কথা আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বিষয়টি কর্তৃপক্ষ দেখছে। তিন থেকে চার দিনের মধ্যে ফেরি আসবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, করবী ফেরি দীর্ঘদিন ধরে বিকল থাকার পরও বিকল্প ফেরির ব্যবস্থা না করায় স্রোত বাড়লে নৌরুটটি অচল হয়ে পড়ে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়রা আরও জানান, ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুটটি রাজবাড়ী ও পাবনাসহ আশপাশের এলাকার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। দীর্ঘ সময় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ভোগান্তি আরও বাড়বে। তাই দ্রুত নতুন বা সচল ফেরি দিয়ে নৌরুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।