Monday 26 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

পিরোজপুরে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার, ৮ মাসে আক্রান্ত ২ হাজারের বেশি

ডিস্ট্রিক্ট করেসপনডেন্ট
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:৩০ | আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩:২২

পিরোজপুরের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে।

পিরোজপুর: জেলায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি পিরোজপুরে। গত ৮ মাসে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ২ হাজার ৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। রোগীর চাপ বাড়ায় পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। জায়গা না থাকায় কোনো কোনো রোগীকে মেঝেতেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ১০ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ৫০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে মোট ৮৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ৩৫ জন, ভান্ডারিয়ায় ১৫, নাজিরপুরে ১৩, নেছারাবাদে ১২ এবং কাউখালী ও মঠবাড়িয়ায় পাঁচজন করে রোগী ভর্তি রয়েছেন। জিয়ানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি নেই।

বিজ্ঞাপন

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৮৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। জেলায় মোট ১ হাজার ৯৯৯ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যুর তথ্যও রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপের কারণ অনুসন্ধানে পিরোজপুরে মাঠপর্যায়ে কাজ করেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) একটি দল। সরেজমিন অনুসন্ধানে বিভিন্ন স্থানে এডিস মশার লার্ভার সন্ধান পাওয়া গেছে। কেটে রাখা সুপারি গাছের গোড়া, ডাবের খোসা, নার্সারির টব, বাসাবাড়ির ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন ও নালায় জমে থাকা পানিতে এডিসের লার্ভা পাওয়া যায়।

বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় সুপারি ও নারকেল গাছের গোড়ায় জমে থাকা পানিকে এডিস মশার অন্যতম প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে শুধু শহরকেন্দ্রিক মশা নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও জমে থাকা পানি অপসারণ ও প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ডের সংকটও দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত রোগীর কারণে সাধারণ ওয়ার্ডের পাশের স্থান এবং মেঝেতেও রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। চিকিৎসাধীন রোগী মারুফা আক্তার বলেন, চার দিন ধরে তীব্র জ্বর, দুর্বলতা ও বমি ভাব নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পর্যাপ্ত জায়গা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পেতে কষ্ট হচ্ছে।

হাসপাতালে ভর্তি কয়েকজন রোগীর ক্ষেত্রে মশারি ব্যবহারে অনীহাও দেখা গেছে। চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু রোগীকে মশারির মধ্যে রাখা জরুরি। আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশা কামড়ালে সেই মশার মাধ্যমে অন্য ব্যক্তির মধ্যে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তবে চিকিৎসাসামগ্রীর কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত এনএস১ (NS1) পরীক্ষার কিট, ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী মজুত রয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সরা ২৪ ঘণ্টা রোগীদের সেবা দিচ্ছেন।

পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হচ্ছে। রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত স্যালাইনও রয়েছে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জেলা পরিষদ ও পিরোজপুর পৌরসভা মশা নিধনে স্প্রে এবং সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু মশা নিধনের ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, বাড়িঘর ও আশপাশের জমে থাকা পানি অপসারণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

বরিশাল বিভাগের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তের দিক থেকে পিরোজপুর বর্তমানে শীর্ষে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রতিবেশী জেলা ঝালকাঠি।

বিজ্ঞাপন

জন্মদিনে রাজকীয় সাজে দীঘি
২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৫:২৩

আরো

সম্পর্কিত খবর