মানিকগঞ্জ: সদর উপজেলায় স্ত্রী ও দেড় বছরের মেয়েকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন সৌদি প্রবাসী একরাম হোসেন (৪২)।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বারাহিরচর জান্নাকান্দি এলাকায় নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহতরা হলেন- প্রবাসী একরাম হোসেন (৪২), তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা আক্তার (২৫) এবং তাদের মেয়ে আলিজা নূর (দেড় বছর)। প্রিয়াঙ্কা সিংগাইর উপজেলার দক্ষিণ এলাকার মোহাম্মদ মহসিন খানের মেয়ে। তিনি একরামের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার রাতে একরাম স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমাতে যান। শনিবার বেলা বাড়লেও ঘরের দরজা না খোলায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। একরামের মা দরজার ফাঁক দিয়ে ছেলেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা তিনজনের মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মামুনুর রশিদ বলেন, একরাম সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটাতেন। এটি তার দ্বিতীয় বিয়ে। তিনি দ্বিতীয়বারের মতো সৌদি আরব থেকে দেশে এসেছিলেন। তিনি বলেন, একরাম দেশে ফেরার পর গত দুই মাস ধরে তাকে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। তবে তাদের পরিবার আর্থিকভাবে সচ্ছল এবং কোনো অর্থনৈতিক সংকট ছিল না।
প্রিয়াঙ্কার বাবা মোহাম্মদ মহসিন খান অভিযোগ করেন, তার মেয়ের সঙ্গে জামাতা একরামের কোনো সমস্যা ছিল না। তার দাবি, একরামের বোনসহ পরিবারের কয়েকজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
প্রিয়াঙ্কার ভাই ইয়াসিনও তার বোন ও ভাগনিকে হত্যার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি আরও আগে ঘটলেও দুপুরের দিকে তারা খবর পান। তার দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে একরাম তার স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যা করেছেন। এরপর স্ত্রীর ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস নিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। একটি হত্যা মামলা এবং অপরটি আত্মহত্যার ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হিসেবে প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা আরও স্পষ্ট হবে।