Sunday 20 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা: পুলিশ সুপার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:০১ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:০৯

কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন।

কুমিল্লা: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) আইফোনের জন্য পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। গ্রেফতারদের সঙ্গে অপ্রতিমের বন্ধুত্ব ছিল বলেও জানায় পুলিশ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান (পিপিএম)।

এ হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর আগে, অপ্রতিমকে (১৩) হত্যায় জড়িত থাকার সন্দেহে চারজনকে আটকের কথা জানিয়েছিল পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও মো. কামরুল হাসানকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে আরও কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার তুহিনের বয়স ১৯ বছর। তিনি সানন্দা এলাকার বাসিন্দা। ২০২৫ সালে কুমিল্লা সিটি কলেজের একাদশ শ্রেণিতে ফেল করার পর তিনি পড়াশোনা ছেড়ে দেন।

গ্রেফতার ফাহাদের বয়স ১৫ বছর। তিনি সালমানপুর এলাকার বাসিন্দা এবং ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অপর গ্রেফতার কামরুল হাসান কুমিল্লার হাতিগাড়া এলাকার বাসিন্দা। আটক সিয়ামের বয়স ১৯ বছর এবং তিনি কুমিল্লার একটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের কারও বিরুদ্ধে এর আগে কোনো মামলা বা পিসিপিআর পাওয়া যায়নি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মোবাইল ফোন দিতে অস্বীকৃতি জানালে অপ্রতিমের সঙ্গে অভিযুক্তদের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে অপ্রতিম গুরুতর আহত হয় এবং পরে তার মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশ সুপার জানান, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ দেখতে পায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে সাইফুল ইসলাম তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা একটি নির্জন জঙ্গলের দিকে যায়।

পরবর্তীতে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজে থাকা তুহিনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন অপ্রতিমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে ওই এলাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও তার এক বন্ধুর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। পরে অভিযান চালিয়ে মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদকে হেফাজতে নেওয়া হয়। ফাহাদকে জিজ্ঞাসাবাদে তার বন্ধু মো. কামরুল হাসানের নাম আসে বলে পুলিশের ভাষ্য। পরে কামরুলকেও হেফাজতে নেওয়া হয়।

তুহিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আসামীরা জঙ্গলেই বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল তার মোবাইল ফোন নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

এদিকে ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা যাচাই করতে সিয়াম (১৯) নামে আরও একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশে জানিয়েছে, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় এবং ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ করে দ্রুত আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন (সিএস) দাখিলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর