Sunday 20 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

স্ত্রী-মেয়েকে হত্যার পর প্রবাসীর আত্মহত্যা, ২ পরিবারের পৃথক মামলা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপনডেন্ট
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:১৬

মানিকগঞ্জ: সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বারাহিরচর জান্নাকান্দি এলাকায় স্ত্রী ও দেড় বছরের মেয়েকে হত্যার পর প্রবাসী একরাম হোসেন আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নিহত প্রিয়াঙ্কা আক্তারের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা এবং একরামের মায়ের করা পৃথক অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পৃথক দুটি মামলার বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনির হোসেন।

শনিবার রাতে প্রিয়াঙ্কার বড় বোন মিশু বেগম বাদী হয়ে ছোট বোন ও ভাগ্নিকে হত্যার অভিযোগে মানিকগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে বোন জামাই একরামকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও মামলায় আসামি করা হয়। অন্যদিকে, একরামের মা তাহমিনা বেগম ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় পৃথক অপমৃত্যু মামলা করেছেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, গতকাল শনিবার দুপুরে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বারাহিরচর জান্নাকান্দি এলাকায় নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে একরাম হোসেন (৪২), তার দ্বিতীয় স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা আক্তার (২৫) এবং তাদের দেড় বছরের মেয়ে আলিজা নূরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে প্রবাসি একরাম প্রথমে স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা ও মেয়ে আলিজাকে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন। পরে স্ত্রীর ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস নিয়ে নিজে আত্মহত্যা করেন। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে এবং এতে অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে একরাম স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমাতে যান। শনিবার বেলা বাড়লেও ঘরের দরজা না খোলায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। একরামের মা দরজা বার বার ধাক্কা দিলেও কোন সাড়া না পাওয়ায় এলাকাবাসিকে জানায়। দরজা জানালা বন্ধ থাকায় এক পর্যায়ে দরজার পাশে একটু টিন কেটে ওকি দিয়ে দেখেন একরাম ফ্যানের সাথে ফাঁস নিয়ে ঝুলে আছে আর মেয়ে ও মা মেঝেতে পড়ে আছে। পরে তিনজনের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

একরাম সৌদি আরব প্রবাসী ছিলেন। তার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে কয়েক বছর আগে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। প্রায় তিন বছর আগে তিনি সিংগাইর উপজেলার ভূমদক্ষিণ এলাকার মোহাম্মদ মহসিন খানের মেয়ে প্রিয়াঙ্কাকে বিয়ে করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মামুনুর রশিদ বলেন, একরাম সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটাতেন। এটি তার দ্বিতীয় বিয়ে। তিনি দ্বিতীয়বারের মতো সৌদি আরব থেকে দেশে এসেছিলেন। একরাম দেশে ফেরার পর থেকে তাকে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। সে যে পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহে আছে সেটা বোঝা যেত। তবে একরাম আর্থিকভাবে সচ্ছল ছিলেন। পরকিয়া সম্পর্কে কেউ আছে কিনা সেটা জানা নাই আমার।

প্রিয়াঙ্কার বাবা মোহাম্মদ মহসিন খান দাবি করেন, তার মেয়ের সঙ্গে একরামের কোনো দাম্পত্য বিরোধ ছিল না। পরিবারের অন্য সদস্যদের কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। প্রিয়াঙ্কার ভাই ইয়াসিন তার বোন ও ভাগনিকে হত্যার অভিযোগ তুলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

নিহত প্রিয়াঙ্কার বড় বোন ও মামলার বাদী মিশু বেগম বলেন, তার বোন ও ভাগনিকে হত্যার অভিযোগে একরামকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকতে পারে সন্দেহে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, ঘটনার নিবিড় তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে তিনজনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মৃত একরামের নামে হত্যা মামলা দায়ের প্রসঙ্গে ওসি বলেন, স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার সময় তিনি জীবিত ছিলেন। এ কারণে আইন অনুযায়ী তার নামেও মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তার মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

ওমরাহ শেষে দেশে ফিরেছেন চিফ হুইপ
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৫৩

আরো

সম্পর্কিত খবর