Sunday 27 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

গাইবান্ধায় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ৩৭, পরীক্ষা ছাড়া পশু জবাই না করার নির্দেশ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩:১৮

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

গাইবান্ধা: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ছয়জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ছাড়া কোনো গবাদিপশু জবাই না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারণা ও গবাদিপশুকে টিকার আওতায় আনার কাজ চলছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ সেপ্টেম্বর সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব ছাফরহাটি গ্রামে একটি অসুস্থ গরু জবাই করা হয়। ওই গরুর মাংস কাটাকাটি ও খাওয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পরে জ্বর, মাথাব্যথা ও ফোসকার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৯ সেপ্টেম্বর উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের বাছহাটি গ্রামের একটি অসুস্থ গরু জবাই করে প্রায় ১০০ পরিবারের কাছে কম দামে মাংস বিক্রি করা হয়। এরপর গত দুই সপ্তাহে সর্বানন্দ, তারাপুর, কঞ্চিবাড়ী, সোনারায় ও রামজীবন—এই পাঁচ ইউনিয়নে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেয়।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) কামরুল হাসান এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কে. এম. ইফতেখারুল ইসলাম জানান, সেপ্টেম্বরের শুরুতেই কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের ছয় বাসিন্দার মধ্যে প্রথম উপসর্গ দেখা যায়। অসুস্থ গরুর মাংস খাওয়ার পর তাদের জ্বর ও ত্বকে ফোসকা দেখা দেয়। পরে তারা চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন।

কামরুল হাসান জানান, এই ছয়জনের মধ্যে চারজনের নমুনায় অ্যানথ্রাক্স ধরা পড়ে।

বাছহাটি গ্রামের গোলেজা বেগম (৪০) বলেন, ‘অসুস্থ গরুটির মাংস পরিষ্কার ও রান্না করে খাওয়ার পরপরই আমার হাতে ফোসকা দেখা দেয়।’

একই গ্রামের শফিক আলম (৪৫) বলেন, ‘আমি মাংস খাইনি। শুধু গরু জবাইয়ে সহযোগিতা করেছিলাম। জবাইয়ের সময় গরুর রক্ত হাতে লাগার পর আমার দুই হাতে ফোসকা দেখা দেয়।’

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর গত ২১ সেপ্টেম্বর বাছহাটি গ্রাম থেকে মাংসের দু’টি নমুনা সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারে (সিডিআইএল) পাঠায়। ২৩ সেপ্টেম্বর পাওয়া পরীক্ষার প্রতিবেদনে দু’টি নমুনাতেই অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয় বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কে. এম. ইফতেখারুল ইসলাম।

সিভিল সার্জন ডা. মো. রফিকুজ্জামান জানান, অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি গবাদিপশুকে দ্রুত টিকার আওতায় আনা হচ্ছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় প্রায় ২ লাখ ৫৪ হাজার গবাদিপশু রয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে এলাকায় অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাবের পর চলতি বছরের জুলাইয়ে ১৫টি ইউনিয়নে রিং ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচি শুরু করে সরকার। এর আওতায় এ পর্যন্ত ১৯ হাজার গরুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, আক্রান্ত এলাকার ৩ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা সব গবাদিপশুকে টিকা দেওয়ার কথা।

কে. এম. ইফতেখারুল ইসলাম জানান, বর্তমানে ১১ হাজার টিকা মজুত রয়েছে। আরও ১৫ হাজার টিকার জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

তবে আইসিডিডিআরবি ও আইইডিসিআরের গবেষকেরা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতরে গিয়ে জানান, গরু ছাড়াও ছাগল, ভেড়া ও মহিষের মাধ্যমেও অ্যানথ্রাক্স ছড়াতে পারে।

অন্য গবাদিপশুকে টিকা দেওয়া হচ্ছে না কেন জানতে চাইলে গাইবান্ধার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. জোবাইদুল কবীর বলেন, ‘এ অঞ্চলে অতীতে অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব মূলত গরু থেকে শুরু হওয়ায় বর্তমানে গরুকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে অন্যান্য গবাদিপশুর ওপরও নজর রাখা হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, গত বছরও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল। সে সময় পশ্চিম বেলকা গ্রামের আবুল হোসেনের স্ত্রী রোজিনা বেগম (৪৫) অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও তার পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, অসুস্থ একটি ছাগলের মাংস পরিষ্কার করে রান্না ও খাওয়ার পর তার আঙুলে ফোসকা দেখা দিয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর