সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (এডি) ডা. মো. আনোয়ার হোসেনকে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার স্থলে বগুড়ার ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজ্জাদ কাদিরকে চলতি দায়িত্বে পদায়ন করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত গত ২৯ সেপ্টেম্বরের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ডা. আনোয়ার হোসেনকে মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করলে ৫ অক্টোবর থেকে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য করা হবে।
ডা. আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। এমনকি তাকে পাঠানো খুদে বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের বর্তমান পরিচালক ডা. এ টি এম নুরুজ্জামানের বক্তব্য জানতেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডা. আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে হাসপাতালের বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রোগীদের খাবার ও পথ্য সরবরাহ, মেডিক্যাল সার্জিক্যাল রিকুইজিশন (এমএসআর) সামগ্রী কেনাকাটা এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উল্লেখযোগ্য।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি দায়িত্বে থাকাকালে হাসপাতালের এমএসআর সামগ্রী কেনাকাটায় কয়েকজন পছন্দের ঠিকাদারকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি হয়েছিল। বিভিন্ন ক্রয়প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং কমিশন লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
এদিকে হাসপাতালের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. কৃষ্ণকুমার পালের সঙ্গে ডা. আনোয়ার হোসেনের ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, হাসপাতালের প্রায় ২৫০ কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় অনিয়ম এবং এমআরআই মেশিন ক্রয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আগাম ১৬ কোটি টাকা দেওয়ার অভিযোগে ডা. কৃষ্ণকুমারের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে এসব ঘটনায় ডা. আনোয়ার হোসেনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা পৃথকভাবে তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতালের ক্রয়সংক্রান্ত নথি, এমএসআর সামগ্রী কেনার কাগজপত্র, সরবরাহ বিল, ঠিকাদারি কার্যক্রম এবং আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগের নথি পর্যালোচনা করা হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সরকারি অর্থ ব্যয়ে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা চিহ্নিত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।