সিলেট: জেলার গোয়াইনঘাটে দুর্বৃত্তদের হামলায় বদরুল আলম নামে এক ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা সাদেক মিয়া নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের গুরাগ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বদরুল আলম (৩৩) উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। বর্তমানে তিনি উপজেলা যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। তিনি হাদারপার গ্রামের মৃত মাওলানা তজম্মুল আলীর ছেলে। আহত সাদেক মিয়া লামার হাদারপার (ভৈরবী বস্তি) গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে। নিহত বদরুল দীর্ঘদিন থেকে বালু ও গরুর ব্যবসায় সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সোনা মিয়া জানান, রোববার ভোরে ফজরের নামাজের সময় তার সঙ্গে থাকা সাদেক মিয়ার চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ঘটনাস্থলে তিনি তুহিন ও শাহিন নামের দুই যুবক ধারালো ছুরি দিয়ে বদরুলকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে দেখেন বলে জানান। এ সময় তিনি হামলা থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন বলে জানান সোনা মিয়া।
পরে উপায়ান্তর না পেয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ফোনে না পেয়ে আত্মীয়স্বজনকে খবর দেন সোনা মিয়া। স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বদরুল ও সাদেককে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক বদরুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় ভাই আখলাকুল আম্বিয়া বলেন, ভোর পৌনে ৫টার দিকে বদরুলের সঙ্গে থাকা সাদেক মুঠোফোনে আমার ছোট ভাই মাহবুবকে ফোন করে বাঁচানোর আকুতি জানায়। এর পর থেকেই ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করি। সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসক বদরুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় মনরতল বাজার থেকে ব্যবসায়িক টাকা নিয়ে ফেরার পথে হত্যাকারীরা তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে।
ঘটনার সময় তার সঙ্গে থাকা আহত সাদেক হোসেন বলেন, তারা রাতে মনরতল বাজার থেকে নগদ ৩০ লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে একদল লোক তাদের গতিপথ রোধ করে। টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে গেলে বাধা দিলে দা-চাকুসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বদরুল মারা যান।
হামলায় আহত সাদেকের দাবি, হত্যাকাণ্ডের সময় স্থানীয় গোরাগ্রামের শাহীনুর রহমান (২৯), মামুন আহমদ (৩৪), আমিনুর রশিদ (৩২), তুহিন আহমদ (২৫) ও সুহিন আহমদ (২৩) এবং উপরগ্রাম গ্রামের নোমান আহমদ জড়িত ছিলেন।
ঘটনার খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক মোড়ল পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় বদরুল ও সাদেকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
ওসি ওমর ফারুক মোড়ল বলেন, মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে বদরুল ও সাদেকের ওপর হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা কয়েকজনের নাম জানিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।
তবে কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং কারা জড়িত, তা তদন্ত চলছে। জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।