Wednesday 21 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রংপুরে হঠাৎ চড়া আদা-রসুনের বাজার

ডিস্টিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২১ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৩৪

আদা ও রসুনের দাম কেজিতে ৬০ ও ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

রংপুর: রংপুরে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে আদা ও রসুনের দাম কেজিতে যথাক্রমে ৬০ ও ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে গাজর, কচুরলতি, করলাসহ কয়েকটি সবজির দাম বাড়লেও টমেটো, ঢ্যাঁড়স ও বাঁধাকপির দাম কমেছে। তবে মাছ, মাংস ও ডিমের বাজার গত সপ্তাহের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রংপুর নগরীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশি নতুন আদা কেজিতে ১৮০-২০০ টাকা, আমদানি করা আদা ২২০-২৪০ টাকা, দেশি রসুন ১২০-১৪০ টাকা এবং ভারতীয় রসুন ২২০-২৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে দেশি নতুন আদা ১২০-১৪০ টাকা, আমদানি করা আদা ১৯০-২০০ টাকা, দেশি রসুন ৮০-১০০ টাকা এবং ভারতীয় রসুন ২০০-২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে পুরাতন আদা ও রসুনের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এবং নতুন ফসল এখনো পুরোপুরি বাজারে না আসায় দাম বেড়েছে। সিটি বাজারের সবজি বিক্রেতা রাজু মিয়া বলেন, ‘আদা ও রসুনের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। নতুনভাবে কৃষক চাষ শুরু করেছেন।’ দেশের অন্যান্য বাজারেও আদা-রসুনের দাম বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে; কোথাও কোথাও কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বাড়ার খবর পাওয়া গেছে।

রংপুরের বাজারে বাড়েনি কাঁচামরিচের দাম।

সবজির বাজারে মিশ্র চিত্র

কাঁচাবাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় টমেটোর দাম কমে ১৭০-১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গাজর ১৪০-১৬০ টাকা থেকে বেড়ে ১৭০-১৮০ টাকা, কাঁকরোল ৮০-৯০ টাকা, কচুরলতি ৫০-৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০-৮০ টাকা এবং করলা ৪০-৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০-৬০ টাকা কেজিতে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বাজারে নতুন আসা বাঁধাকপির দাম ৬০-৭০ টাকা থেকে কমে ৫০-৬০ টাকা এবং ঢ্যাঁড়স ৫০-৬০ টাকা থেকে কমে ৪০-৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ৬০-৭০ টাকা, শিম ১২০-১৪০ টাকা, চিকন বেগুন ৪০-৭০ টাকা এবং গোল বেগুন ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে অপরিবর্তিত বা সামান্য ওঠানামার মধ্যে রয়েছে।

ধানপাতার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে-প্রতি কেজি ধনেপাতা ২০০-২৫০ টাকা থেকে নেমে ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ ১০০-১২০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৪৫-৫০ টাকা কেজি দরে গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে।

মাছ, মাংস ও ডিম স্থিতিশীল

খুচরা বাজারে প্রতিহালি ডিম ৪৬-৪৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের সমান। ব্রয়লার মুরগি ১৭০-১৮০ টাকা, পাকিস্তানি সোনালি মুরগি সামান্য কমে ৩০০-৩১০ টাকা, পাকিস্তানি হাইব্রিড ২৯০-৩০০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৪০-৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭২০-৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১০০০-১১০০ টাকা কেজি দরে অপরিবর্তিত রয়েছে।

মাছের বাজারে আকারভেদে রুই ২৫০-৪৫০ টাকা, টেংরা ৪০০-৬০০ টাকা, কই ২০০-৫০০ টাকা, মৃগেল ২৫০-৩০০ টাকা, পাঙাস ১৫০-২০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৫০-২২০ টাকা, কাতল ৩০০-৫০০ টাকা এবং শিং ৩০০-৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের বাজার বরাবরের মতই স্থিতিশীল।

এছাড়া, খুচরা বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০৫-২১০ টাকা লিটার এবং খোলা সয়াবিন তেল ২০০-২২০ টাকা লিটার দরে অপরিবর্তিত রয়েছে। মসুর ডাল (চিকন) ১৬০-১৮০ টাকা, মুগডাল (চিকন) ১৬০-১৭০ টাকা এবং ছোলাবুট ১১০-১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেট ময়দার দাম ৭৫-৮০ টাকা থেকে বেড়ে ৮৫-৯০ টাকা কেজিতে দাঁড়িয়েছে। চালের বাজারে স্বর্ণা (মোটা) ৪৮-৫০ টাকা, মিনিকেট ৮০-৮৫ টাকা এবং নাজিরশাইল ৮৫-৯০ টাকা কেজি দরে গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে।

সার্বিকভাবে রংপুরের কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে মসলা জাতীয় পণ্যে ঊর্ধ্বমুখী চাপ স্পষ্ট হলেও প্রোটিনজাতীয় খাদ্যপণ্যের বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আদা-রসুনের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর