Thursday 22 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রমেকে আগুন: বিদ্যুৎ বিভ্রাট ৬ ঘণ্টা, ভোগান্তিতে রোগীরা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২২ অক্টোবর ২০২৬ ১৫:০১ | আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৬ ১৫:১৫

রমেক। ছবি: সংগৃহীত

রংপুর: রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার পর টানা ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে প্রশাসনিক শাখাসংলগ্ন সুইচ বোর্ডে আগুন লাগে এবং দুপুর ১২টার দিকে ওয়ার্ডগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপিত হয়। এ সময় আইসিইউ ও ডায়ালাইসিসসহ জরুরি সেবা সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় এবং রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে প্রশাসনিক শাখাসংলগ্ন সুইচ বোর্ডে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। কর্তব্যরত নার্স আগুন দেখতে পেয়ে রংপুর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় সুইচ বোর্ডের সার্কিট ব্রেকার ও তার পুড়ে যাওয়ায় পুরো হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আকস্মিক এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে। আতঙ্কে রোগীরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. কানিজ সাবিহা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হলেও কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তিনি জানান, প্রশাসনিক ভবনের বিদ্যুৎ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগ চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

টানা ছয় ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর দুপুর ১২টার দিকে লাইনের ত্রুটি মেরামত শেষে ওয়ার্ডগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়। বিদ্যুৎ সচল হওয়ার পর হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং ডায়ালাইসিস ও আইসিইউসহ জরুরি চিকিৎসাসেবা পুরোপুরি চালু করা হয়েছে। তবে প্রশাসনিক ভবনের বিদ্যুৎ এখনো বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

উল্লেখ্য, রমেক হাসপাতালে এর আগেও একাধিকবার অগ্নিকাণ্ড ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের এপ্রিলে আইসিইউর এসি সিস্টেমে আগুন লাগার পর হাসপাতালের বড়ো একটি অংশ চার ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎবিহীন ছিল। এ ছাড়া হাসপাতালের ৪০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১২টিতে জরুরি জেনারেটর সংযোগ নেই, যার ফলে লোডশেডিংয়ের সময় চিকিৎসক ও নার্সদের মোবাইলফোনের স্বল্প আলোয় জরুরি চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এসব ওয়ার্ডের মধ্যে ৬, ৭, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড উল্লেখযোগ্য। এই অবকাঠামোগত দুর্বলতা জরুরি সেবার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর