বান্দরবান: বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমাকে ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে পাহাড়ি জেলা বান্দরবান। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক আয়োজন, ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা, ফানুস বাতি উড়ানো ও হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে তিন দিনের এ উৎসব উদ্যাপনের প্রস্তুতি নিয়েছেন মারমা সম্প্রদায়ের মানুষ। উৎসবকে কেন্দ্র করে শহর ও পাহাড়ি পল্লিগুলোতে বিরাজ করছে আনন্দঘন পরিবেশ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জেলা শহরের স্থানীয় রাজার মাঠে প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিংপ্রু জেরী ও সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

প্রবারণা পূর্ণিমা মারমা সম্প্রদায়ের কাছে ‘ওয়াগ্যেই পোয়ে’ বা ‘ওয়াগ্যোই পোয়ে’ নামে পরিচিত। তিন মাসের বর্ষাবাস শেষে আশ্বিনী পূর্ণিমায় এ উৎসব উদ্যাপন করা হয়। এ সময় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বিহারে বিহারে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন এবং বিশ্বজগতের সব প্রাণীর শান্তি, মঙ্গল ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করেন।
উৎসবের দ্বিতীয় দিন সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে অনুষ্ঠিত হবে ছোয়াইং দান, বুদ্ধপূজা ও সমবেত প্রার্থনাসহ নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা। বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষসহ নানা বয়সী মানুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশ নেবেন। রথযাত্রা দেখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদেরও সমাগম ঘটবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।

এবারের উৎসবে ময়ূর আকৃতির একটি সুসজ্জিত রথ বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে। শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণের পর রথটি সাঙ্গু নদীতে বিসর্জন দেওয়ার ঐতিহ্যবাহী আয়োজন রয়েছে। এ ছাড়া সন্ধ্যা থেকে আকাশে ফানুষ বাতি উত্তোলন, মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
প্রবারণা পূর্ণিমা শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও অহিংসার বার্তাও বহন করে। এ উৎসবের মাধ্যমে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করার পাশাপাশি সব প্রাণীর সুখ, শান্তি ও মঙ্গল কামনা করেন।
প্রতি বছর পূর্ণিমা তিথিতে উদ্যাপিত এ উৎসবকে ঘিরে বান্দরবানে তৈরি হয় ভিন্নধর্মী উৎসবের পরিবেশ। ধর্মীয় ঐতিহ্য ও বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রবারণা পূর্ণিমা পাহাড়ের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।