কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় বালুভর্তি ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে হাসানুর (৭) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত শিশুর পরিবারের সঙ্গে মাত্র ১ লাখ টাকায় সমঝোতা করার অভিযোগ উঠেছে। অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার খবরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ঝাঁকুয়াবাড়ি গ্রামের পাকা রাস্তার মাথায় আনুমানিক বিকেল ৫টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হাসানুর ওই গ্রামের আনিসুর রহমান ও হাসনা বেগমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালুভর্তি ট্রাক্টরের চাকা হাসানুরের শরীরের ওপর দিয়ে চলে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘাতক ট্রাক্টরটির মালিক ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পণ্ডিতপাড়া গ্রামের ফুলবর মিয়া বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এদিকে মাত্র সাত বছর বয়সি একটি শিশুর প্রাণহানির ঘটনায় তার পরিবারের সঙ্গে ১ লাখ টাকায় সমঝোতার অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একটি শিশুর জীবনের মূল্য কি মাত্র ১ লাখ টাকা—এমন প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। সমঝোতার বিষয়ে শিশুটির স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১ লাখ টাকায় ‘গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ’ এ সুরাহা করে দেন।
এ বিষয়ে ভিতরবন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিউল আলম শফি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে জেনেছি। স্থানীয় লোকজন ১ লাখ টাকায় বিষয়টি সমাধান করেছে।’
নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. এনামুল হক প্রধান বলেন, ‘ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতো।’
এদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুটি মারা গেলেও মামলা না করে তড়িঘড়ি দাফনকার্য সম্পন্ন করে তার পরিবার।
হাসানুরের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজনসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বালুভর্তি ট্রাক্টরের বেপরোয়া ও দ্রুতগতিতে চলাচল বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।