Sunday 01 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

এইচএসসির ফলাফলে শীর্ষে রাজশাহী জেলা, বোর্ডে ছন্দপতন

শামীম সবুজ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপনডেন্ট
১ নভেম্বর ২০২৬ ১৮:৪৬ | আপডেট: ১ নভেম্বর ২০২৬ ১৮:৪৮

এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস।

রাজশাহী: ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাসের দিক থেকে শীর্ষস্থান দখল করেছে রাজশাহী জেলা। এই জেলায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৫.৩৩ শতাংশে। জেলা ভিত্তিক ফলের এ অর্জনের মাঝেও বোর্ডটিতে সামগ্রিক পাসের হারে বড় পতন ঘটেছে।

তথ্যমতে, জেলা থেকে মোট ২৮ হাজার ৮৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৫ হাজার ৫৪০ জন, যার মধ্যে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ১৭৮৫ জন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার নেমে এসেছে ৪৫.০৬ শতাংশে, যা গত বছরের (৫৯.৪০%) তুলনায় ১৪.৩৪ শতাংশ পয়েন্ট কম এবং জাতীয় গড় পাসের হারের (৫২.১২%) চেয়ে ৭.০৬ শতাংশ পয়েন্ট কম।

বিজ্ঞাপন

গত ৩১ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফল প্রকাশ করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের ঘোষিত ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের ধারাবাহিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রয়েছে। সার্বিক ফলাফলে ছেলে ও মেয়েদের পাসের হারে ১৫.৩২ শতাংশীয় পয়েন্টের বড় ফারাক দেখা গেছে। বোর্ডে ৬৫ হাজার ৯২৮ জন মেয়ে পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৪ হাজার ৯৬১ জন পাস করে পাসের হার অর্জন করেছেন ৫৩.০৩ শতাংশ।

অন্যদিকে ৭১ হাজার ৪২৮ জন ছেলের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ২৬ হাজার ৯৩৩ জন, যা শতাংশের হিসেবে মাত্র ৩৭.৭১ শতাংশ। এই প্রবণতাটি শীর্ষস্থান অর্জনকারী রাজশাহী জেলাতেও একইভাবে দৃশ্যমান; জেলাটিতে মেয়েদের পাসের হার যেখানে ৬৩.৩৮ শতাংশ, সেখানে ছেলেদের পাসের হার মাত্র ৪৯.১৫ শতাংশ।

রাজশাহী জেলার পর ৫৩.৬৪% পাসের হার নিয়ে বোর্ডে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে- বগুড়া জেলা (২৬,৭৩৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪,৩৪১ জন পাস ও ১,৩০৯ জন জিপিএ-৫)। অন্যদিকে, সবচেয়ে হতাশাজনক ফল করেছে নওগাঁ জেলা; ১২,৭৮৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৪,৭২১ জন পাস করায় ৩৬.৯৩% পাসের হার নিয়ে জেলাটি বোর্ডের সর্বনিম্ন বা তলানিতে অবস্থান করছে। এ ছাড়া পাবনা জেলায় ৭,৬৪৬ জন (জিপিএ-৫: ৫৫০), সিরাজগঞ্জে ৮,৫৮৫ জন (জিপিএ-৫: ৩০১), নাটোরে ৪,৫৬৭ জন (জিপিএ-৫: ১২৮), চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩,৭৬৭ জন (জিপিএ-৫: ১৪৮) এবং জয়পুরহাটে ২,৭২৭ জন (জিপিএ-৫: ১৪৫) শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।

অন্যদিকে, শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি। শূন্য পাসের তালিকার এসব প্রতিষ্ঠানে মোট ১৭৩ জন (তালিকাভেদে ১৮৬ জন) পরীক্ষার্থী ছিলেন। এর মধ্যে রাজশাহী জেলার ৩টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে বেলপুকুরিয়া উইমেন্স কলেজ (৫ জন), তেঁতুলিয়া পিরগাছা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ (৩ জন) ও রাজশাহী কমার্স কলেজ (১ জন)।

এছাড়াও বগুড়ার গাবতলীর তসলিম উদ্দিন তারাফদার কলেজ (৪৬ জন), নওগাঁর নিয়ামতপুরের শাংসইল আদিবাসী স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১৫ জন), নাটোরের গুরুদাসপুরের বঙ্গবন্ধু সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি বিএম ইনস্টিটিউট (১২ জন), পাবনা সাঁথিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক টুকু কলেজ (১০ জন), নাটোর সদরের আবুল খায়ের কলেজ (৮ জন) ও জয়পুরহাট সদরের শালপাড়া আইডিয়াল কলেজসহ (৭ জন) বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এ তালিকায় পড়েছে।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফফাত জেরিনের মতে, শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর চিঠি দিয়ে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপরিদিকে বোর্ডের ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শতভাগ (১০০%) পাসের গৌরব অর্জন করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ৩৩৯ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছেন। শতভাগ পাসের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বগুড়ার বিএএফ শাহীন কলেজ (৮০ জন) ও মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৭৬ জন)। এছাড়াও জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ (৫২ জন), পাবনা ক্যাডেট কলেজ (৪৮ জন), রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ (৪৬ জন), পাবনার স্কয়ার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ (২৩ জন), সিংড়ার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১২ জন), রাজশাহীর দুর্গাপুরের হরিরামপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১ জন) এবং সিরাজগঞ্জের হযরত শাহ কামাল কলেজ (১ জন) এই তালিকায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, সারাদেশে এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। এ বছর দেশজুড়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী, যা আগের বছরের (৬৯ হাজার ৯৭ জন) চেয়ে ২৯ হাজার ১৩ জন কম। সারা দেশে গত ২ জুলাই পরীক্ষা শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হলেও বন্যার কারণে স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা পরে ৯ সেপ্টেম্বর সম্পূর্ণ করা হয়।