বাগেরহাট: বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা অনুমোদনহীন ও অবৈধ রিসোর্টগুলো বনের প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশের কোনো ক্ষতি করছে কিনা—তা সরজমিনে যাচাইয়ে পরিদর্শন করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিনি সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশনের আওতাধীন বনসংলগ্ন ১৮টি ইকো-রিসোর্ট পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদফতর খুলনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বনবিভাগের বাগেরহাট ও মোংলা অঞ্চলের কর্মকর্তারা।
এসময় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, ‘গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আমরা দেখেছি পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার (ইসিএ) নিয়ম ভেঙে অবৈধভাবে একাধিক রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়েছে। মূলত এখানে কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ড ঘটছে কিনা এবং সুন্দরবনের পরিবেশ, সুরক্ষার ঘাটতি কিংবা প্রাণ-প্রকৃতির ক্ষতি হচ্ছে কিনা তা দেখতেই আমার এ আগমন।’
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বনের সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষা সরকারের অগ্রাধিকার। শব্দদূষণ রোধে জেনারেটরের পরিবর্তে সোলার এনার্জি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন। তিনি বলেন, ‘শব্দদূষণ, বন্যপ্রাণী ও হরিণ শিকার বা পরিবেশের কোনো ক্ষতিকর দিক পরিলক্ষিত হলে এবং কোনো অবৈধ স্থাপনা পাওয়া গেলে তা তাৎক্ষণিক বন্ধ করে দেওয়া হবে। আপাতত রিসোর্টগুলো ঘুরে কোনো প্রত্যক্ষ ক্ষতি চোখে পড়েনি। তবে মন্ত্রণালয়ে ফিরে গিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া এবং প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) বিধিমালা লঙ্ঘন করে গেল সরকারের আমলে গড়ে ওঠায় রিসোর্টগুলো গত ৪ অক্টোবর পরিবেশ অধিদফতর খুলনা জেলা কার্যালয় থেকে এসব অনুমোদনহীন রিসোর্ট বন্ধের আদেশ দেওয়া হয়েছিল।
খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে সুন্দরবন সংলগ্ন দাকোপের ঢাংমারী, কৈলাসগঞ্জ ও বাণিশান্তা এলাকার ১৮টি রিসোর্টকে তাদের কার্যক্রম বন্ধ এবং নির্ধারিত সময়ে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
চিঠিতে উল্লিখিত ১৮টি রিসোর্ট হলো— অরণ্যছায়া, অরণ্যবাড়ী, কেওড়াবন, মায়াবন, গহন, দ্য ফরেস্ট রিট্রিট, নিকুঞ্জ ভ্যালি, লা সিলভা কটেজ, বনবিবি, সুন্দরী, ইরাবতী, বনমালী, গোলকানন, পিয়ালী, ম্যানগ্রোভ, জঙ্গলবাড়ী, বনবাস ও বনলতা ইকো কটেজ।
মূলত সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অভাব এবং বনবিভাগ ও পরিবেশ অধিদফতরের তদারকি না থাকায় মোংলা ও দাকোপ সীমান্ত ঘেঁষে একের পর এক এসব বাণিজ্যিক রিসোর্ট গড়ে ওঠে। পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর এই সরাসরি পরিদর্শনের পর এখন মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।