রাজবাড়ী: পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়িত হলে রাজবাড়ীবাসীর ভাগ্যের দরজা খুলে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে রাজবাড়ী পৌর কমিউনিটি সেন্টারে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে রাজবাড়ী জেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ১৯৯৩ সাল থেকে পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। দীর্ঘ ৩৪ বছর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, রাজবাড়ী ও পাবনাকে সংযুক্ত করে ওয়াই-টাইপ পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে। এরইমধ্যে পদ্মা ব্যারেজের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর কার্যক্রম শুরুর জন্যও প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছেন।
তিনি বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মহান স্বাধীনতার ঘোষক। তারই সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমান এখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। আজ আমরা নতুন করে স্বপ্ন দেখছি। বাংলাদেশকে নতুন করে বিনির্মাণ করতে হবে। দীর্ঘদিন শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকায় দেশ নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়েছে। রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা, মাঠেঘাটে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। একদিনে এসব সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর দেশের বিভিন্ন জেলা ঘুরে দেখেছেন। সব জায়গায় একটি বিবর্ণ পরিস্থিতি চোখে পড়েছে। গত ২০ বছরে দেশে তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। তাই এখন বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
রাজবাড়ীর উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজবাড়ীতে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় রেলওয়ে ওয়ার্কশপ নির্মাণের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া রাজবাড়ী সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পুনর্বিন্যাস করে পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন একটি উপজেলা গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কোনো ষড়যন্ত্র যেন আমাদের দুর্বল করতে না পারে।
জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নঈম আনসারীর সভাপতিত্বে সভায় জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক এ মজিদ বিশ্বাস সঞ্চালনা করেন। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খায়রুল আনাম বকুল, জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক আইয়ুবুর রহমান আইয়ুব, জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, জেলা ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ লোকমান হোসেন, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসমিন আক্তার পিয়া এবং জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ইতিহাস, প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরেন।