Sunday 08 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৮ নভেম্বর ২০২৬ ১৮:৪৫

নওগাঁ: বদলগাছীতে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের এভাবে চুল কেটে দেওয়ায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কোলার পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগেও শিক্ষার্থীদের মারধরসহ বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবকেরা।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিদ্যালয় চলাকালে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলো করে কেটে দেন প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম। এতে শিশুদের চুলের স্বাভাবিক আকৃতি নষ্ট হয়ে যায় এবং সহপাঠীদের সামনে তারা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে উপজেলাজুড়ে শুরু হয় সমালোচনা। ভিডিওতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কথায় কথায় মারধরেরও অভিযোগ তোলেন।

মিলন নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘আমি বাড়িতে ছিলাম না। পরে এসে দেখি, আমার ছেলে ফাহামুদ হোসাইনের মাথার চুলও কেটে দেওয়া হয়েছে। অথচ তার মাথায় স্বাভাবিক চুলই ছিল। এ নিয়ে আজ বিদ্যালয়েও ঝামেলা হয়েছে।’

আরেক অভিভাবক রকেট হোসেন বলেন, ‘প্রায় ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল যেভাবে কেটে দেওয়া হয়েছে, তাতে শিশুরা চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। এর আগেও এক শিক্ষার্থীর ভ্রুর চুল কেটে দিয়েছিলেন এই শিক্ষক। তিনি প্রায়ই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন অশোভন আচরণ করেন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

মিতু বানু নামের আরেক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমার ছেলেকে এমনভাবে মারধর করা হয়েছে যে তার দুই পা রক্তাক্ত হয়ে যায়। ভয়ে এখন সে স্কুলেই যেতে চায় না। একজন শিক্ষক যদি শিশুদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন, তবে তারা কোথায় নিরাপদ থাকবে?’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কোলার পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ছেলে-মেয়েদের চুল অনেক বড় হয়েছিল, চোখের ওপর এসে পড়ছিল। দেখতে খারাপ লাগছিল। এ কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দিয়েছি।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। আমি বর্তমানে ট্রেনিংয়ে আছি। কী কারণে শিক্ষার্থীদের মাথার চুল এভাবে কেটে দেওয়া হলো, তা তদন্ত করতে সহকারী শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

সারাবাংলা/এএ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর