ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরের দক্ষিণ পীরেরবাগ আমতলা ৬০ ফুট এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। রাস্তার দাবি তুলে ভুয়া কর্মসূচির মাধ্যমে অসাধু একটি গোষ্ঠী চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ভবন মালিক ও বাসিন্দারা।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ভবনমালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন। তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ভবনমালিকদের অভিযোগ, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই— এমন কিছু ব্যক্তি ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা রাস্তার দাবি তুলে বিভিন্নভাবে তাদের হয়রানি করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভবন ও জমি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। প্রায় দুই থেকে তিন মাস আগে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে। জমির তিন পক্ষের মালিক যৌথভাবে ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্মাণের দায়িত্ব দেয় ‘অ্যাচিভ রিয়েল এস্টেট লিমিটেড’ নামের প্রতিষ্ঠানকে। তবে রাজউক থেকে সব ধরনের ছাড়পত্র থাকার পরও চাঁদা না দেওয়ায় হয়রানি করছে একটি গোষ্ঠী।
জানা যায়, নির্মাণাধীন ভবনের উত্তর পাশে আগে তিনটি বাড়িতে যাতায়াতের জন্য একটি এজমালি পথ ছিল। পরবর্তী সময়ে ওই জমির মালিকেরা যৌথভাবে ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পথটির ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায়। তাদের দাবি, ঢাকা সিটি জরিপেও সংশ্লিষ্ট জমি ব্যক্তিমালিকানাধীন হিসেবে রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, ‘তারা প্রায় দুই বছর আগে পুরো জায়গা খালি করে ডেভেলপারকে নির্মাণকাজের জন্য বুঝিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু নানা প্রতিকূলতার কারণে কাজ এগোতে পারছেন না। এর মধ্যে রাস্তার দাবিতে বিভিন্ন পক্ষের কর্মকাণ্ডে তারা আরও সমস্যায় পড়ছেন। আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাই। জমির মালিক ও নির্মাণকাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানকে যেন এভাবে হয়রানির হাত থেকে রেহাই দেওয়া হয়।’
ভুক্তভোগী হারুন অর রশিদ জানান, তাদের নির্মাণকাজ রাজউকের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী চলছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট জমি ও রাস্তা নিয়ে এসি ল্যান্ডের প্রতিবেদনসহ তাদের কাছে বিভিন্ন নথি ও তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।
এ বিষয়ে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা এলাকায় বসবাস করছেন এবং আশপাশের প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ভালো। কিন্তু সম্প্রতি বাইরে থেকে কিছু ব্যক্তি এসে রাস্তার দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করছেন। এতে নির্মাণকাজে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং তাদের মধ্যে আতঙ্ক ও বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার দাবিতে যারা বিভিন্ন কর্মসূচি করছেন, তাদের অনেকেরই সংশ্লিষ্ট জমিতে মালিকানা নেই। এমনকি তারা নির্মাণাধীন ভবনের আশপাশের বাড়ির মালিক বা ভাড়াটিয়াও নন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মূলত চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে এসব কর্মসূচি ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা অভিযোগ করে বলেন, কিছু কিশোর ও যুবককে ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও ও পোস্ট ছড়ানো হচ্ছে। তাদের পেছনে কারা রয়েছেন, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানান তারা। কয়েকজনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই করা যায়নি।
মানববন্ধন থেকে ভবনমালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, রাস্তার বিষয়ে কারও বৈধ দাবি থাকলে তা আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা উচিত। কোনো ধরনের ভয়ভীতি, চাপ সৃষ্টি বা চাঁদাবাজির মাধ্যমে নির্মাণকাজ বন্ধ করার চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।