চট্টগ্রাম: পুলিশ পরিচয়ে ভুয়া রিপোর্ট ও সহায়তার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া পেশাদার প্রতারক চক্রের মূল হোতা মো. মোজাম্মেল হক ওরফে কবিরকে (৫০) গ্রেফতার করেছে পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ১১টার দিকে পিবিআই চট্টগ্রামের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এম. কে. এইচ. জাহাঙ্গীর হোসেন।
গ্রেফতার মো. মোজাম্মেল হক নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানার গৌরিপুর এলাকার মৃত বেশারত উল্লাহর ছেলে।
পিবিআই জানায়, চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানার একটি মামলার সূত্র ধরে এই অভিযান পরিচালিত হয়। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে পিবিআই, সিআইডি কিংবা ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয়ে বিভিন্ন মামলার বাদীকে ফোন দিয়ে আসছিল। তারা মামলার পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গাড়িভাড়া ও তদন্ত খরচের নামে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করত।
বিষয়টি পিবিআইয়ের নজরে এলে পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার উপ-পরিদর্শক (এসআই) (নিরস্ত্র) মো. আবু সুফিয়ান বাদী হয়ে রাউজান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার এম. কে. এইচ. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মামলা রুজুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের অবস্থান চিহ্নিত করা হয়। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানাধীন গৌরীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। একই সঙ্গে তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআইয়ের তদন্তে বের হয়ে আসে আসামি ও তার চক্রের সদস্যরা চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালত থেকে কৌশলে বিভিন্ন মামলার বাদীর মোবাইল নম্বর ও অভিযোগের বিবরণ সংগ্রহ করত। পরবর্তী সময়ে নিজেদের তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বাদীদের বিশ্বাস অর্জন করতো এবং প্রতারণার মাধ্যমে বিকাশে টাকা আদায় করতো। অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম কার্ড ব্যবহারের কারণে তাদের শনাক্ত করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছিল।
পিবিআইয়ের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোজাম্মেল প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে চক্রের অন্য সদস্যদের সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছেন।