Tuesday 20 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

দুর্গাপূজার আনন্দে শামিল হতে চট্টগ্রামে আসছেন প্রধানমন্ত্রী: জেলা প্রশাসক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২০ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৩৩ | আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১২:২৫

জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

চট্টগ্রাম: শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আজ চট্টগ্রামে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার সফরকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সামনে চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য তুলে ধরতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও প্রস্তুতি তদারককালে এসব কথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এটি আমাদের অহংকার, আমাদের শক্তি। এই সম্প্রীতির চিত্র আমরা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরতে চাই।’

বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসক জানান, প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। সেখান থেকে সরাসরি জেএম সেন হলে যাবেন। সেখানে মন্দির পরিদর্শন ও সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ এবং বক্তব্য দেবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, এসআরবি, বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপের সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি নৃত্য ও গীতাপাঠসহ বিভিন্ন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই পূজা যুগ যুগ ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এর মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য দেশ-বিদেশের মানুষের সামনে তুলে ধরতে চান তারা।

এ ছাড়া দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে জেলাজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে ১২ হাজার আনসার সদস্য ও পাঁচ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি এসআরবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও নিয়োজিত রয়েছেন।

প্রতিটি পূজামণ্ডপ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকদের নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মিত পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করছেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্ভয়ে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসন সার্বক্ষণিক তাদের পাশে রয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনের স্থানগুলোতেও আলোকসজ্জা, সিসি ক্যামেরা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

এবার দুর্গাপূজায় সরকারি সহায়তা বাড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আগের বছরের তুলনায় চাল ও আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়েছে সরকার। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আর্থিকভাবে অসচ্ছল পূজামণ্ডপগুলোকে সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

বাঁশখালীর প্রত্যন্ত জেলেপল্লীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গতকাল বাঁশখালীর জেলেপল্লীতে গিয়েছিলাম। তারা আমাকে যেভাবে আন্তরিকতা দেখিয়েছেন, তাতে আমি সত্যিই অভিভূত হয়েছি।’

এবার পূজার আয়োজন ও মানুষের অংশগ্রহণ বেড়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে প্রায় দেড় হাজার নতুন পূজামণ্ডপ হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলাতেই প্রায় ৪০০টি নতুন পূজামণ্ডপ স্থাপন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ তৈরি হয়েছে। উৎসবকে আরও আনন্দঘন করার পাশাপাশি চট্টগ্রামের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য তুলে ধরতে প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটি একসঙ্গে কাজ করছে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর