ঢাকা: দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ ক্রমেই আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। আবহাওয়া অধিদফতরের সর্বশেষ বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঝড়টি বর্তমানে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে এবং এ সময় তার শক্তি ও ব্যাপ্তি উভয়ই বাড়ছে।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের আশপাশের সমুদ্র এখন অতি উত্তাল, যা বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে সতর্কতা জারি করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
রোববার (৩০ নভেম্বর) পূর্বাভাস অনুযায়ী সারা দেশে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকতে পারে। বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম, আবহাওয়া সাধারণত শুষ্ক থাকবে।রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হওয়া আগামী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদফতর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা— এই চারটি সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত প্রদর্শন করতে নির্দেশ দিয়েছে। অধিদপ্তরের জারি করা বিশেষ বিজ্ঞপ্তি (নং–৯) সই করেন আবহাওয়াবিদ একে এম নাজমুল হক।
বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়— শনিবার দুপুর ১২টার পরিমাপে ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র ছিল
চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১,৮৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ১,৮১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা থেকে ১,৭৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, পায়রা থেকে ১,৭৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে।
ঝড়টি শ্রীলঙ্কার উপকূলীয় অঞ্চলসহ দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছিল এবং একই দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর ওপর প্রভাব ফেলছে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়, যা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলে বিস্তৃত।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ বর্তমানে ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার বেগ মুহূর্তে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠে যাচ্ছে। ঝড়টির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের এই গতিবেগ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে বঙ্গোপসাগরে আবহাওয়ার পরিবর্তন শুরু হওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঝড়ের গতিপথ ও শক্তি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সতর্কতা সংকেত আরও পরিবর্তিত হতে পারে।