ঢাকা: পৌষ মাস প্রায় শেষের দিকে। ঋতুচক্র অনুযায়ী এ সময় শীতের তীব্রতা বাড়ে। এর সঙ্গে শৈত্যপ্রবাহ যুক্ত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শনিবার (১০ জানুয়ারি) থেকে আগামী বুধবার পর্যন্ত মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা থাকতে পারে। শনিবার ও রোববার সারা দেশের রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এর আগে বৃহস্পতিবার দেশের ২৪ জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেলেও গতকাল শুক্রবার তা কমে ২০ জেলায় নেমেছে। তবে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, এই শৈত্যপ্রবাহ এখনই শেষ হচ্ছে না; অন্তত এ মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তা অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার নওগাঁর বদলগাছীতে রেকর্ড হওয়া ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাই চলতি শীত মৌসুমে এখন পর্যন্ত দেশের সর্বনিম্ন।
অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা ও পাবনায় ৮ দশমিক ৫, কুড়িগ্রামে ৯, সিরাজগঞ্জে ৯ দশমিক ১, নীলফামারী ও রাজশাহীতে ৯ দশমিক ৪, যশোরে ৯ দশমিক ৫, রংপুরে ৯ দশমিক ৬, কুষ্টিয়া ও দিনাজপুরে ৯ দশমিক ৮ এবং বগুড়ায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, নরসিংদী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলাসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের মোট ১৬ জেলাসহ বর্তমানে সারাদেশের ২০টি জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ চলছে। আগের দিন বৃহস্পতিবার এ সংখ্যা ছিল ২৪।
আবহাওয়া অধিদফতরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী দুই দিন পর তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও পরে আবার কমতে শুরু করবে। এতে নতুন কিছু জেলা শৈত্যপ্রবাহের আওতায় আসতে পারে, আবার কিছু জেলা এ তালিকা থেকে বাদও পড়তে পারে।
তিনি জানান, শ্রীলঙ্কার উপকূলে একটি নিম্নচাপ অবস্থান করায় বায়ুতে কিছুটা উষ্ণতা ছড়িয়েছে। এর ফলে কিছু এলাকায় কুয়াশা কমলেও কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, নোয়াখালীসহ ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্থানে কুয়াশা রয়ে গেছে।
এদিকে পঞ্চগড়ে হিমালয় থেকে বয়ে আসা হাড়কাঁপানো হাওয়ায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। রাত গভীর হলেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে জেলার সড়ক ও মহাসড়ক। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা এতটাই ঘন থাকে যে কয়েক হাত দূরের কিছুই দেখা যায় না। ফলে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করতে হচ্ছে।
শৈত্যপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীরা। জীবিকার তাগিদে তীব্র শীত উপেক্ষা করেই ভোরে কাজে বের হতে হচ্ছে তাদের।
চলমান শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।