Saturday 07 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

শিক্ষকদের ভুল সিদ্ধান্ত / মানোন্নয়ন পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত ইবির ইংরেজি বিভাগের ১২ শিক্ষার্থী

ইবি করেসপন্ডেন্ট
১০ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:৩৮
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ইবি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইংরেজি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে অ্যাকাডেমিক অর্ডিন্যান্স (বিধি) লঙ্ঘন হওয়ায় মানোন্নয়ন পরীক্ষা দিতে পারছেন না অন্তত ১২জন শিক্ষার্থী। শিক্ষকদের গাফিলতির কারণেই তারা এ পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

এ নিয়ে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস কর্নারে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পাঁচ শিক্ষার্থী। তারা বলেন, শিক্ষকদের ভুলে আজ আমরা ভুক্তভোগী। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। তারা এই সপ্তাহের মধ্যেই তাদেরকে মানোন্নয়ন পরীক্ষার অনুমতি প্রদানের দাবি জানান। শিক্ষকদের ভুলের দায় তাদের উপর চাপালে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা। এসময় তারা দ্রুত জটিলতা নিরসন করে তাদের মানোন্নয়ন পরীক্ষা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, কলা অনুষদের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের অর্ডিন্যান্স অনুসরণ না করে ইংরেজি বিভাগের তৎকালীন সভাপতি অধ্যাপক ড. সালমা সুলতানা ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী কোর্স বণ্টন করেন। ফলে শিক্ষাবর্ষের অনার্সের মোট কোর্স ক্রেডিট ১৩৬ এর বদলে ১২৮ হয় এবং চূড়ান্ত ফল প্রকাশে জটিলতা দেখা দেয়। পরে ফল প্রকাশে দেরি হলে শিক্ষার্থীদের চাপে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ীই লবিংয়ের মাধ্যমে ফল প্রকাশ করা হয়।

এদিকে জুলাই আন্দোলন পরবর্তী সেশনজট নিরসনে ৩য় বর্ষে থাকাকালীন তৎকালীন সভাপতি অধ্যাপক ড. মিয়া মো. রাশেদুজ্জামান ৪র্থ বর্ষ শেষে একসঙ্গে মানোন্নয়ন পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি শিক্ষার্থীদের গড় সিজিপিএ যাই হোক না কেন কোনো কোর্সে বি মাইনাস (৩.০০) এর নিচে থাকলে মানোন্নয়ন পরীক্ষা দিতে পারবে বলে জানান। ফলে ৩য় বর্ষ থেকে আর কোনো কোর্সের মানোন্নয়ন পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। কিন্তু, ফল প্রকাশের সময় ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের অর্ডিন্যান্স কার্যকর হওয়ায়, অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী মানোন্নয়নের জন্য গড় সিজিপিএ ৩.০০ এর নিচে থাকার শর্ত প্রযোজ্য হয়। ফলে শর্ত পূরণ না হওয়ায় ১২ জন শিক্ষার্থী মানোন্নয়ন পরীক্ষার আবেদন করলেও তার অনুমোদন হয়নি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগের প্রাক্তন সভাপতি ড. মিয়া রাশেদুজ্জামান বলেন, ‘ভুল অর্ডিন্যান্স অনুসরণ কয়েকজন শিক্ষার্থী মানোন্নয়ন পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। মানোন্নয়নের আবেদনসহ আমিও ভিসি অফিসে গিয়েছিলাম। পরবর্তীতে সেখান থেকে সিদ্ধান্ত আসেনি। আমরা সদয় সহানুভূতি দেখাতে অনুরোধ করেছিলাম প্রশাসনকে।’

এদিকে দেশের বাইরে থাকায় ভিন্ন অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী কোর্স বন্টনকারী সাবেক সভাপতি ড. সালমা সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বিভাগের বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, ‘এটা ভুল ছিলো। প্রশাসনের নিকট সমাধানে সুপারিশ জানিয়েছি। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও উপাচার্যের সুপারিশ হলে পরীক্ষা গ্রহণ করতে বাধা নেই।’

কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের কল্যাণ বিবেচনা করে উপাচার্য মহোদয়ের কাছ থেকে ওই ফলাফল প্রকাশের জন্য অনুমোদন নেওয়া হয়। পরবর্তীতে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে সেটির জন্যও সুপারিশ করেছি। শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হোক এটা কখনোই আমরা কামনা করি না।’

ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. ওয়ালিউর রহমান বলেন, ‘মানোন্নয়ন পরীক্ষার আবেদন অর্ডিন্যান্সের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। এছাড়া আগের কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে। বিষয়টি বিভাগ ও পরীক্ষা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, এ বিষয়ে পদ্ধতিগতভাবে সিন্ধান্ত নেওয়া হবে।

সারাবাংলা/জিজি
বিজ্ঞাপন

আরো