চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রশাসনিক ভবনে ২৪ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমসহ বেশ কয়েকজন। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন ভবনে আটকে থাকায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সাবেক শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে প্রকৌশলী শাহরিয়ারের উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, নবনিযুক্ত উপাচার্যের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত ভবনের তালা খোলা হবে না।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে চুয়েট চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও টেকনোলজিস্ট বাসুদেব প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করে অসুস্থ ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম মুঠোফোনে চিকিৎসককে ডেকে পাঠানোর পর আলোচনার মাধ্যমে তাদের ভবনে প্রবেশের অনুমতি দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার সকাল ৯টার দিকে ক্যাম্পাসে পৌঁছান উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। ফটকে নিজেকে ‘শিক্ষক’ পরিচয় দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন তিনি। পরে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের ফটকের তালা ভেঙে নিজের দফতরে যান এবং নির্ধারিত চেয়ারে বসেন। এ সময় তার কক্ষে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য ভবনে প্রবেশের পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাকে ও তার সহযোগীদের দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ছেড়ে যাওয়ার সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন না ছাড়লে সেটিকে ‘ভ্যাকেন্ট’ ঘোষণা, ফটকে তালা দেওয়া এবং বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
পরে আলটিমেটামের সময় শেষ হলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের ভেতরের ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। একই সঙ্গে ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এ সময় তারা ‘তালা, তালা, তালা হবে, ভিসি ভবন তালা হবে’, ‘প্রত্যাখ্যান, প্রত্যাখ্যান, অনলাইন ভিসি প্রত্যাখ্যান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
নবনিযুক্ত উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ভবনের তালা খোলা হবে না বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।