Saturday 31 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৪৫.৯৮%, জিপিএ-৫ ২৯৫৩

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩১ অক্টোবর ২০২৬ ১৫:৩০ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ১৫:৪৫

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুর

রংপুর: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুরের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি—উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। এবার বোর্ডটিতে পাসের হার ৪৫.৯৮ শতাংশ, যা গত ৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯৫৩ জন শিক্ষার্থী।

বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৭৮৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় উপস্থিত থেকে ৫১ হাজার ৩৯৮ জন পাস করেছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১টায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. বোরহান উদ্দিন স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

বিজ্ঞাপন

বোর্ডের তথ্যমতে, এবার ৮টি জেলার ৬৬৮টি প্রতিষ্ঠানের মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৭৮৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে পাস করেছেন ৫১ হাজার ৩৯৮ জন। জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ৩৮৩ জন এবং ছাত্রী ১ হাজার ৫৭০ জন। শতভাগ পাস করেছে ৬টি প্রতিষ্ঠান। কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪৯টি।

ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে

এবারও পাসের হারে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা ভালো করেছে। মেয়েদের পাসের হার ৫০.২৬ শতাংশ, ছেলেদের ৪১.৩১ শতাংশ। ছেলেদের মধ্যে ৫৫ হাজার ৪৬৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৩ হাজার ৫০৮ জন উপস্থিত হয়ে পাস করেছেন ২২ হাজার ১০৬ জন। মেয়েদের মধ্যে ৬০ হাজার ২৮ জনের মধ্যে ৫৮ হাজার ২৭৯ জন উপস্থিত থেকে পাস করেছেন ২৯ হাজার ২৯২ জন।

জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতেও এগিয়ে মেয়েরা। ছাত্রীদের মধ্যে ১ হাজার ৫৭০ জন এবং ছাত্রদের মধ্যে ১ হাজার ৩৮৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

গ্রুপভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান এগিয়ে

গ্রুপভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক ভালো ফল করেছে। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৬৬.৭৭ শতাংশ, মানবিক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে ৩৯.৯৩ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩৫.৭৩ শতাংশ। বিজ্ঞান বিভাগে ২৭ হাজার ১৮০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৭ হাজার ৫৬৩ জন। মানবিক বিভাগে ৮০ হাজার ৮২৮ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৩১ হাজার ২৮৬ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৭ হাজার ৪৮৩ জনের মধ্যে পাস করেছেন ২ হাজার ৫৪৯ জন।

২০২০ থেকে ২০২৬: ধারাবাহিক পতনের চিত্র

দিনাজপুর বোর্ডের গত কয়েক বছরের ফলাফল পর্যালোচনায় স্পষ্ট নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়। ২০২০ সালে করোনার কারণে পরীক্ষা না হয়ে অটোপাস দেওয়া হয়, তখন পাসের হার ছিল ১০০ শতাংশ। এরপর ২০২১ সালে ৯২.৪৩ শতাংশ, ২০২২ সালে ৭৯.০৮ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৪.৪৮ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৭৭.৫৬ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে পাসের হার ৫৭.৪৯ শতাংশে নেমে আসে। ২০২৬ সালে এসে তা আরও কমে ৪৫.৯৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত ৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

সেরা ও শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান

বোর্ডের তালিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ১০০ শতাংশ পাসের হার অর্জন করেছে ৬টি কলেজ। অন্যদিকে ০% পাসের হার—অর্থাৎ কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি—এমন কলেজের সংখ্যা ৪৯টি।

বিশ্লেষণ বলছে, সামগ্রিকভাবে দিনাজপুর বোর্ডে এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি—দুটোই কমেছে। মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে সব সূচকে এগিয়ে থাকলেও বোর্ডের সার্বিক ফলাফল উদ্বেগজনক। বিজ্ঞান বিভাগ তুলনামূলক ভালো করলেও মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ফলাফল পিছিয়ে। শিক্ষার মান উন্নয়নে এবং পাসের হার বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ফলাফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ভুল-ত্রুটি থাকলে লিখিতভাবে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর