Saturday 31 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

এইচএসসিতে নীলফামারীর ১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩১ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:৩৮

জেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়, নীলফামারী।

নীলফামারী: দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় নীলফামারী জেলার ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। অন্যদিকে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের দুই প্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া সবাইও ফেল।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে নীলফামারী জেলার ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন অবস্থা দেখা গেছে। কলেজ-সংশ্লিষ্টরা কেউ ফলাফল নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন, কেউ বা বেতন ভাতার সংকটকে চিহ্নিত করেন। জেলার ১৪টি কলেজে অংশ নেওয়া ১৩৯ জন শিক্ষার্থীর শতভাগ ফেল করেছে।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—নীলফামারী সদর উপজেলার​আদর্শ কলেজ, পঞ্চপুকুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, তারনিবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লক্ষ্মীচাপ সৃজনশীল কলেজ, কিশোরগঞ্জ উপজেলার ভেরভেরি মঝাপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নয়ন খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ডোমার উপজেলার​জামিরবারি মহিলা কলেজ, বাগডোকড়া নিমোজখানা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, জলঢাকা উপজেলার​সমিরুদ্দিন আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ডিমলা উপজেলা আদাবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজ,​জেলা পরিষদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং​গয়াখড়িবাড়ি মহিলা কলেজ।

বিজ্ঞাপন

মাদরাসা বোর্ডের অধীনে দু’টি প্রতিষ্ঠান হলো সৈয়দপুরের পোড়াহাট ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার সাতজন এবং ডোমারের পাঙ্গা চৌপথী আব্দুল মজিদ আলিম মাদরাসার ১৫ জন।

নীলফামারী সদর উপজেলার​আদর্শ কলেজের প্রভাষক সারিউল ইসলাম বলেন, ‘২৫ বছর ধরে প্রতিষ্ঠান চলমান রয়েছে; এমন ফলাফল এর আগে হয়নি। আমাদের প্রতিষ্ঠানের কোনো বিল-বেতন এখনো খোলেনি। কলেজের ৩৭ জন স্টাফ আমরা, মানবেতর জীবনযাপন করছি। সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’

ডোমারের পাঙ্গা চৌপথী আব্দুল মজিদ আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ আবুল কালাম বলেন, ‘আমাদের মাদরাসা থেকে এবার ১৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই ফেল করেছে। পর্যাপ্ত গুরুত্ব সহকারে সবাইকে পাঠদান করার পরেও এবারের ফলাফল কেন এমন হলো বুঝতে পারছি না। বেশীরভাগ শিক্ষার্থী এক বিষয়ে ফেল করেছে, আমরা বোর্ড চ্যালেঞ্জ করার পরিকল্পনা নিয়েছি।’

স্থানীয়রাও জানান, ফেল করা অনেক স্কুলের এখনো বিল-বেতন চালু হয়নি। এ ছাড়াও ১৪ প্রতিষ্ঠানের মোট ১৩৯ জন শিক্ষার্থীর শতভাগ ফেল করার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের উদাসীনতাকে দায়ী করছে তারা।

মনিরুজ্জামান নামের এক অভিভাবক ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘একটা কলেজে ৪০ বা ৫০ জন অংশ নিয়ে সবাই ফেল করবে এটা মেনে নেওয়া যায়না। যদি সামান্য কয়েকজন পাস করত, এরপরেও বিষয়টা মেনে নেওয়া যেত যে তারা চেষ্টা করেছে।’

এ বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেনি।

২০২৫ সালে নীলফামারী জেলায় এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬৩.৭১ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৯.৯২ শতাংশে। এক বছরের ব্যবধানে জেলায় এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার কমেছে ১৩.৭৯ শতাংশ পয়েন্ট।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর