পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসন নেই দীর্ঘ ১৭ বছর, কিন্তু তার রাজত্ব যে এখনও অমলিন, তা আবারও প্রমাণ করল তার সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত বায়োপিক ‘মাইকেল’। গত সপ্তাহে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই সিনেমাটি বক্স অফিসের পুরনো সব রেকর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমার তালিকায় নাম লেখানো এই ছবিটি বিশ্বজুড়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আর এই বায়োপিকের সাফল্যের হাত ধরেই মাইকেলের সেই সত্তোর ও আশির দশকের কালজয়ী গানগুলো আবারও নতুন প্রজন্মের কানে বাজতে শুরু করেছে।
‘বিট ইট’, ‘বিলি জিন’, ‘ব্যাড’ কিংবা ‘থ্রিলার’-এর মতো গানগুলো দিয়ে মৃত্যুর দেড় দশক পর আবারও রাজকীয়ভাবে নিজের শীর্ষ স্থান পুনরুদ্ধার করেছেন এই কিংবদন্তি। আধুনিক বিশ্বের জনপ্রিয় সংগীত তারকা জাস্টিন বিবার কিংবা বিশ্বখ্যাত কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস-কেও জনপ্রিয়তার দৌড়ে পেছনে ফেলে দিয়েছেন তিনি। সমালোচকদের সব নেতিবাচক মন্তব্যকে ভুল প্রমাণ করে ছবি মুক্তির মাত্র তিন দিনেই এর আয় ২০০ মিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁই ছুঁই করছে।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন এবং তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা ‘কোয়র্ব’-এর ২০২৬ সালের মে মাসের সর্বশেষ গ্লোবাল ডিজিটাল আর্টিস্ট র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, মাইকেল জ্যাকসন ১১,১৫৭ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার এক নম্বর অবস্থানে রয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাস্টিন বিবারকে তিনি প্রায় ৫০০০ পয়েন্টের বিশাল ব্যবধানে পেছনে ফেলেছেন। তালিকায় ৪৩৯৭ পয়েন্ট নিয়ে বিটিএস তৃতীয় এবং ৪০৮৫ পয়েন্ট নিয়ে ব্যাড বানি চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন। এমনকি বর্তমান সময়ের মিউজিক সেনসেশন টেলর সুইফটও ৩১০০ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার পঞ্চম স্থানে পড়ে আছেন।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতেও এখন চলছে মাইকেল জ্যাকসনের একক আধিপত্য। অ্যাপল মিউজিক, আইটিউনস, ইউটিউব, শাজাম এবং ডিজারের মতো বড় বড় সব মাধ্যমে তিনি এখন সবার ওপরে। তবে স্ট্রিমিং জায়ান্ট স্পটিফাইতে তিনি এখনও জাস্টিন বিবারের ঠিক পরের অবস্থানেই রয়েছেন। বাবার জীবন নিয়ে মেয়ের কিছু আপত্তি থাকলেও দর্শক এবং শ্রোতারা যে মাইকেল জ্যাকসনের জাদুতে আবারও বুঁদ হয়ে আছেন, তা এই ডিজিটাল র্যাঙ্কিংই স্পষ্ট করে দিচ্ছে। বায়োপিকের হাত ধরে পপ সম্রাটের এই পুনরুত্থান বিশ্ব সংগীত ইতিহাসে এক নতুন নজির সৃষ্টি করেছে।