বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান— এই নামটাই যেন আধুনিক ভারতীয় সিনেমার এক অসাধারণ অধ্যায়ের প্রতীক। তিন দশক ধরে তার অভিনয়, নিত্যনতুন চরিত্র আর সাহসী পছন্দের মাধ্যমে তিনি দর্শকের মন জয় করেছেন। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আমির খান যে চমকপ্রদ মন্তব্য করলেন, তা তারকা জীবনের পেছনের সত্যিটাকে আরও মানবিক রঙ দিয়েছে।
‘আমি জানি না আমি কীভাবে তারকা হয়ে উঠলাম,’– পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বললেন তিনি। ‘যুক্তি অনুসারে আমার এমন হওয়ার কথা ছিল না। আমি সমস্ত নিয়ম ভেঙেছি এবং যেসব পদক্ষেপ নিয়েছিলাম, সেগুলো সাফল্যের দিকে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল না। তবুও যে সম্মান ও ভালোবাসা পেয়েছি, তার জন্য আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ।’
আমিরের এই সরল, অথচ গভীর বক্তব্য দেখায় যে তারকা হওয়া কোনো পূর্বনির্ধারিত পথ নয়। তিনি বরং এমন এক যাত্রার সাক্ষী, যেখানে নিজের পছন্দ ও নীতি অনুসরণ করাটাই মুখ্য।
সিনেমা নির্বাচন: ব্যবসা নয়, অনুভূতির খেলা
আমির খান কখনো ছবির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বা ট্রেন্ড দেখে সিনেমা বেছে নেন না। ‘আমি কখনো জানি না কোনো ছবি চলবে কি না। ‘সরফরোস’ বা ‘লগন’-মুক্তির সময় আমরা ধারণা পর্যন্ত করতে পারিনি দর্শক কীভাবে নেবে। ‘দিল চাহতা হ্যায়’ ছিল সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে। আর ‘তারে জমিন পর’-এর মতো ছবির পেছনে বাণিজ্যিক হিসাব কখনো ছিল না। যা আমাকে ব্যক্তিগতভাবে উত্তেজিত করে, শুধু তাই করি।’
এই মানসিকতা আমিরকে শুধু ব্যতিক্রমী চলচ্চিত্রগুলোতে সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং দর্শকের সঙ্গে তার সংযোগকেও আরও মজবুত করেছে। সিনেমা তার জন্য কেবল একটি পেশা নয়, বরং আবেগ আর ভাবনার জায়গা।
‘সিতারে জমিন পর’: পুরোনোর স্মৃতি, নতুন গল্প
সাম্প্রতিক সময়ে তিনি অভিনয় করেছেন ‘সিতারে জমিন পর’-এ, যা ২০০৭ সালের ‘তারে জমিন পর’-এর সিক্যুয়েল। জেনেলিয়া ডি’সুজার সঙ্গে তার অনবদ্য পারস্পরিক খেমিস্ট্রি দর্শককে মুগ্ধ করেছে। ইতিমধ্যেই সিনেমাটি প্রশংসিত হয়েছে এবং প্রমাণ করেছে যে, তিন দশক পার হলেও আমিরের সিনেমা পছন্দের মান ও দর্শকপ্রিয়তা অপরিবর্তিত।
তারকা জীবনের মানবিক দিক
আমির খানের বক্তব্য আবারও প্রমাণ করে, তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন নিজের পছন্দ, নীতি ও ব্যক্তিত্বের জায়গা থেকে কাজ করতে। এই দৃষ্টিভঙ্গি তাকে শুধু বলিউডের অন্যতম সেরা অভিনেতা বানায় না, বরং দর্শকের হৃদয়ে এক বিশেষ স্থানও গড়ে দেয়।
তাদের জন্য যারা বলিউডের ঝলমলে আড়ালে সত্যিকারের শিল্পীকে খুঁজতে চায়, আমির খান এক অনুপ্রেরণার গল্প। তার জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি সিনেমা, আর প্রতিটি অভিনয় মুহূর্ত আমাদের শেখায়—তারকা খ্যাতি কেবল সাফল্য নয়, বরং একটি মানবিক যাত্রা।