ভালোবাসা কি শুধু আবেগের নাম, নাকি আত্মসম্মানেরও এক নীরব চুক্তি? ৫৬ বছরে পা রাখা জেনিফার লোপেজ যেন নতুন করে সেই প্রশ্নটাই ছুঁড়ে দিলেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভক্তদের দিকে।
লাস ভেগাসের ঝলমলে কনসার্ট মঞ্চে দাঁড়িয়ে জে-লো শুধু গানই শোনাননি, শোনান জীবনের গল্প—ভাঙা হৃদয়, পাওয়া শক্তি আর নিজেকে নতুন করে চিনে নেওয়ার অভিজ্ঞতা। মঞ্চের আলোয় দাঁড়িয়ে তিনি যেন বললেন, ভালোবাসা এখন আর আগের মতো নয়। সময় বদলেছে, বদলেছে তার ভাবনাও।
১৯৯৯ সালে গাওয়া জনপ্রিয় গান If You Had My Love–এর কথা মনে করে জেনিফার স্বীকার করেন, তখন তিনি ছিলেন অনিশ্চিত, একটু হারিয়ে যাওয়া এক তরুণী। ভালোবাসার ভেতর নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদ ছিল প্রবল। কিন্তু আজ?
আজ সেই গান তিনি গেয়ে ওঠেন শক্ত কণ্ঠে, আত্মবিশ্বাসে ভর করে। কারণ, এই জেনিফার আর কাউকে খুশি করার জন্য নিজেকে ছোট করেন না।
দীর্ঘ সম্পর্ক, একাধিক বিয়ে আর বেন অ্যাফ্লেকের সঙ্গে বিচ্ছেদের এক বছর পর জেনিফার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন— ভালোবাসা চাইলে এখন আর শুধু আবেগ যথেষ্ট নয়। দরকার সম্মান, ভদ্রতা আর গ্রহণযোগ্যতা। ‘আমি যেমন, ঠিক সেভাবেই আমাকে মেনে নিতে হবে’— এই কথার মধ্যেই লুকিয়ে আছে তার নতুন জীবনের দর্শন।
জেনিফার ভালো করেই জানেন, ভালোবাসা মানেই ঝুঁকি। হৃদয় ভাঙার ভয় থাকবেই। তবু সেই ভয়কে সঙ্গী করেই এগিয়ে যেতে চান তিনি। তবে এবার আর নিজের সীমা ভেঙে নয়। ভালোবাসা মানে নিজেকে হারিয়ে ফেলা নয়—বরং নিজেকে শক্ত করে ধরে রাখা।
জে-লো এখন কী শেখান?
এই গল্প শুধু একজন তারকার নয়, এটি হাজারো মানুষের। জেনিফার লোপেজ যেন নীরবে শেখাচ্ছেন— ভালোবাসা তখনই সুন্দর, যখন সেখানে আত্মসম্মান থাকে। আর সম্পর্ক তখনই টেকে, যখন দু’জন মানুষ একে অপরকে বদলাতে নয়, বুঝতে চায়।
ঝলমলে মঞ্চ, আলোঝলমলে জীবন—সবকিছুর আড়ালেও একজন নারী আছেন, যিনি আজ নিজের শর্তে বাঁচতে শিখেছেন।
আর সেটাই হয়তো জেনিফার লোপেজের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর গান।