ঢাকাই বিনোদন জগতের আলোচিত নাম— তাহসান খান। গান, অভিনয় আর ব্যক্তিত্বে যিনি দীর্ঘদিন ধরেই দর্শক-শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। পর্দার ঝলমলে উপস্থিতির আড়ালে তার ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই থেকেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সেই আলোচনায় এবার যুক্ত হলো আরেকটি অধ্যায়— দ্বিতীয় সংসারও ভেঙে যাওয়ার খবর।
গত বছরের ৪ জানুয়ারি মেকআপ আর্টিস্ট রোজা আহমেদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তাহসান। পরিচয়ের সময়টা ছিল খুব বেশি দীর্ঘ নয়—মাত্র চার মাস। বিয়ের পর শুরুতে দুজনকে দেখা গেছে ফুরফুরে মেজাজে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসিমুখের ছবি, শুভেচ্ছা আর নতুন জীবনের উচ্ছ্বাস। কিন্তু সেই উচ্ছ্বাস যে বেশিদিন স্থায়ী হয়নি, তা এখন স্পষ্ট।
তাহসান নিজেই জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অস্ট্রেলিয়া ট্যুরে যাওয়ার আগেই তারা আলাদা থাকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। তার ভাষায়, সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই তিনি অনেকটাই নিজেকে গুটিয়ে নেন—ফেসবুক থেকে দূরে থাকেন, নতুন গানেও অনীহা তৈরি হয়। নীরবতার এই সময়টা ছিল তার জন্য ব্যক্তিগতভাবে কঠিন।
বিয়ের কয়েক মাস পরই সম্পর্কের ভেতর দূরত্ব তৈরি হয় বলে জানান তিনি। এমনকি গত বছরের জুলাই মাসের শেষ দিক থেকেই তারা আলাদা থাকছেন। তবে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি তাহসান। কিন্তু বিবাহবার্ষিকী ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভুয়া খবর তাকে বাধ্য করেছে সত্যটা জানাতে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা এখন একসঙ্গে থাকছি না।’
রোজা আহমেদ পেশাগত জীবনে একজন প্রতিষ্ঠিত মেকআপ আর্টিস্ট। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্রাইডাল মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করছেন তিনি। নিউইয়র্কে রয়েছে তার নিজস্ব মেকআপ প্রতিষ্ঠান। কর্মজীবনে সফল হলেও ব্যক্তিগত জীবনে এই সম্পর্কটি প্রত্যাশিত স্থায়িত্ব পায়নি।
বিনোদন অঙ্গনে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন প্রায়ই জনসম্মুখে চলে আসে— কখনো ইচ্ছায়, কখনো অনিচ্ছায়। তাহসানের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে বরাবরের মতোই তিনি চেষ্টা করেছেন বিষয়টি ব্যক্তিগত পরিসরেই রাখতে। শোনা যাচ্ছে, শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদের ঘোষণা আসতে পারে, যদিও এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে তিনি আগ্রহী নন।
তাহসানের ব্যক্তিগত জীবনে এটি দ্বিতীয় বড় ভাঙন। এর আগে ২০০৬ সালের ৩ আগস্ট অভিনেত্রী রাফিয়াথ রশিদ মিথিলার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ ১১ বছরের সেই সংসারের ইতি ঘটে ২০১৭ সালে। সেই বিচ্ছেদও ছিল আলোচিত, কিন্তু সময়ের সঙ্গে দুজনই নিজেদের মতো করে জীবনের পথ বেছে নিয়েছেন।
এই মুহূর্তে তাহসান খান যেন আবারও ফিরে গেছেন নিজের ভেতরের জগতে। গান ও অভিনয়ের বাইরে নীরবতা তার নতুন সঙ্গী। তারকা জীবনের ঝলকানির আড়ালে একজন মানুষের ব্যক্তিগত ভাঙন যে কতটা নিঃশব্দ হতে পারে, তাহসানের এই অধ্যায় যেন সেটিই মনে করিয়ে দেয়।
ভক্তরা এখন অপেক্ষায়— এই নীরবতার পর কি আবার নতুন কোনো গানে, নতুন কোনো চরিত্রে ফিরে আসবেন তাহসান? ব্যক্তিগত জীবনের ভাঙন পেরিয়ে শিল্পী তাহসান হয়তো আবারও তার সৃষ্টিশীলতায় খুঁজে নেবেন নতুন আশ্রয়। সময়ই বলবে, জীবনের এই কঠিন অধ্যায় তাকে কোন সুরে, কোন গল্পে ফিরিয়ে আনে।