Friday 25 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সাবেক আইনমন্ত্রী ও তার বান্ধবীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১১ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৫৭
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঢাকা: সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও তার বান্ধবী তৌফিকা করিমসহ চারজনের বিরুদ্ধে প্রায় ২৫ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে মানিলন্ডারিং মামলা দায়ের করেছে সিআইডি।

রোববার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ বিষয়টি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তার বান্ধবী তৌফিকা করিম, মো. রাশেদুল কাওসার ভুঞা জীবন ও মো. কামরুজ্জামান পরস্পর যোগসাজশে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ আদায় করেছে। চক্রটি ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, গুলশান শাখার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে নিয়মিত চাঁদা আদায় করত।

বিজ্ঞাপন

জসীম উদ্দিন বলেন, মো. কামরুজ্জামান ২০১৫ সালে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে যোগদান করেন। এর পর থেকেই তিনি অভিযোগ সংশ্লিষ্ট তৌফিকা করিমের ‘ল’ ফার্ম “সিরাজুল হক অ্যাসোসিয়েটস”- এর সঙ্গে নামমাত্র আইনি পরামর্শ চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে তৌফিকা করিমের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে নিয়মিতভাবে অর্থ স্থানান্তর করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পলাতক হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত শুধুমাত্র ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান থেকেই চক্রটি ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা আদায় করে। তৌফিকা করিমের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও প্রায় ১০ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায়ের তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক মন্ত্রী হওয়ার পর তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী তৌফিকা করিম ও মো. রাশেদুল কাওসার ভুঞা জীবনকে ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) হিসেবে নিয়োগ দেন। একইসঙ্গে তিনি “লিগ্যাল অ্যাসিসটেন্স টু হেল্পলেস প্রিজনার অ্যান্ড পারসন্স” নামক একটি এনজিও প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। ওই এনজিওতে তৌফিকা করিমকে চেয়ারম্যান, মো. রাশেদুল কাওসার ভুঞা জীবনকে সেক্রেটারি জেনারেল এবং নিজে ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আনিসুল হক। এই এনজিওর নামে সোনালী ব্যাংক পিএলসি, সুপ্রিম কোর্ট শাখায় পরিচালিত হিসাবের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিতভাবে চাঁদার অর্থ আদায় করা হতো। ১১ মার্চ ২০১৫ থেকে ৩০ জুন ২০২৪ পর্যন্ত ওই এনজিওর মাধ্যমে ২৪ কোটি ৫৩ লাখ ৬৯ হাজার ২১ টাকা চাঁদা আদায়ের তথ্য পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, তৌফিকা করিমের নিজ নামে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ২৬টি হিসাব নম্বরে জমাকৃত ২৪ কোটি ৫৩ লাখ ৬৯ হাজার ২১ টাকা বিজ্ঞ মহানগর স্পেশাল জজ আদালতের আদেশে ফ্রিজ করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাত অপর সদস্যদের শনাক্তকরণ ও অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

সারাবাংলা/এমএইচ/এসআর
বিজ্ঞাপন

আজ ছুটির দিনে ঢাকার বাতাস 'সহনীয়'
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৫০

আরো

সম্পর্কিত খবর