রবিন হুড— শোনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক বীরের ছবি, ধনীদের ধন গরিবদের মধ্যে বণ্টন করা এবং অন্যায়কে দমন করার সাহসী নায়ক। কিন্তু এবার সেই পরিচিত বীরত্বগাথা একেবারে বদলে গেছে। হিউ জ্যাকম্যানের অভিনীত নতুন সিনেমা ‘দ্য ডেথ অব রবিন হুড’-এ ধারনাকে পুরোপুরি উল্টে দিয়েছে।
প্রকাশিত ট্রেলারে দেখা গেছে, রবিন হুডকে একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত, অপরাধবোধে ভুগতে থাকা মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এক দৃশ্যে তিনি বলছেন, ‘আমি এত মানুষ হত্যা করেছি, তার কোনো হিসাব নেই, এটা একটা অভিশাপ।’ এটিই সিনেমার মূল আকর্ষণ—প্রথাগত বীরের গল্প থেকে বেরিয়ে এসে দেখা যায় একজন মানুষ, যার অতীতের নৃশংসতার স্মৃতিতে এখনও সে তাড়িত।
সিনেমার গল্প অনুযায়ী, গুরুতর আহত হওয়ার পর রবিন হুডের জীবন পরিবর্তিত হয় এক রহস্যময়ী নারীর মাধ্যমে। এই নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন জোডি কোমার। তাঁর সাহায্যে বেঁচে ফিরলেও অতীতের কর্মফলের মুখোমুখি হওয়া থেকে রেহাই নেই।
পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার মাইকেল সারনোস্কি, যিনি এর আগে পিগ ও আ কোয়ায়েট প্লেস: ডে ওয়ান-এর জন্য প্রশংসিত হয়েছেন, এই সিনেমার মাধ্যমে রবিন হুডের আসল পরিচয় এবং প্রচলিত লোককথার মধ্যে টানাপোড়েন ফুটিয়ে তুলেছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘রবিন হুড ছিলেন একজন দস্যু, অনেক ভয়াবহ কাজ করেছে সে। তবে দীর্ঘ জীবনে সে নিজেই নিজের তৈরি হওয়া বীরত্বগাথা দেখেছে।’
উত্তর আয়ারল্যান্ডে চিত্রায়িত এই সিনেমায় হিউ জ্যাকম্যান শুধু অভিনয় করছেন না, তিনি প্রযোজক হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন। এই বছরের শেষের দিকে মুক্তি পাবে সিনেমাটি, এবং দর্শকদের জন্য এটি হবে এক চমকপ্রদ অভিজ্ঞতা—পরিচিত কিংবদন্তি চরিত্রকে নতুন চোখে দেখার সুযোগ।
দ্য ডেথ অব রবিন হুড শুধু একটি অ্যাকশন সিনেমা নয়; এটি অতীতের বীভৎসতা, অনুশোচনা ও মানুষের জটিল মনস্তাত্ত্বিক যাত্রার গল্প। তাই, যারা শুধু বীরের গল্প দেখতে চান, তাঁদের জন্য এটি হয়তো একটু অন্যরকম, কিন্তু সিনেমাপ্রেমীদের জন্য নিশ্চিতভাবে আকর্ষণীয়।