বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কিছু জুটি শুধু পর্দায় নয়, দর্শকের আবেগেও স্থায়ী আসন করে নেয়। ঠিক তেমনই এক নাম— শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস। এক সময় যাদের সিনেমা মানেই প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের ঢল, সেই জুটিকে নিয়ে আবারও আলোচনার ঝড়। কারণ, দীর্ঘ বিরতির পর বড় পর্দায় ফিরছেন অপু বিশ্বাস, আর সেই ফেরার গল্পে ঘুরেফিরে উঠে আসছে শাকিব খানের নাম।
প্রায় দুই বছর পর নতুন সিনেমা ‘দুর্বার’ দিয়ে পর্দায় ফিরছেন অপু বিশ্বাস। এই প্রত্যাবর্তন ঘিরে এক ইভেন্টে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়তেই অতীতের সেই জনপ্রিয় জুটির প্রসঙ্গ টেনে আনেন অভিনেত্রী নিজেই। স্পষ্ট কোনো ঘোষণা নয়, বরং এক ধরনের আশার ইঙ্গিত—যা ভক্তদের কল্পনাকে নতুন করে উসকে দিয়েছে।
ঢালিউডের সুপারহিট জুটি হিসেবে শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস একসঙ্গে অভিনয় করেছেন ৭২টি সিনেমায়— যা এ প্রজন্মের চলচ্চিত্র ইতিহাসে বিরল। রোমান্টিক গল্প থেকে পারিবারিক নাটক, অ্যাকশন থেকে আবেগ— সব ঘরানাতেই দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছে এই জুটি। পর্দার রসায়ন এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, বাস্তব জীবনের সম্পর্ক ভাঙনের পরও দর্শকের মনে সেই জুটি ভাঙেনি।
শাকিব খানকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘তিনি একজন গ্লোবাল স্টার, সুপারস্টার, মেগাস্টার। তাকে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই।’
এই বক্তব্যে যেমন সম্মান আছে, তেমনি আছে পরিণত শিল্পীর সৌজন্য। এরপরই তিনি যোগ করেন— যদি কোনো ‘হৃদয়বান প্রযোজক’ এগিয়ে আসেন, তাহলে আবারও শাকিব-অপু জুটিকে পর্দায় দেখা যেতেই পারে। সরাসরি কোনো প্রতিশ্রুতি নয়, আবার পুরোপুরি অস্বীকৃতিও নয়— এই মাঝামাঝি অবস্থানই ভক্তদের আশা জিইয়ে রাখছে।
সময় বদলেছে, বদলেছে ঢালিউডের দর্শক-রুচিও। এখন গল্প, অভিনয় ও নির্মাণ— সবকিছুর দিকেই বাড়তি নজর। এমন বাস্তবতায় শাকিব-অপু জুটির প্রত্যাবর্তন যদি হয়, তবে তা শুধু নস্টালজিয়া নয়, বরং হতে পারে নতুন সময়ের নতুন গল্প।
অপু বিশ্বাসের নতুন সিনেমা ‘দুর্বার’-এ তার বিপরীতে রয়েছেন আব্দুন নূর সজল। পরিচালক কামরুল হাসান ফুয়াদের এই ছবির মাধ্যমেই বোঝা যাবে— বিরতির পর অপু কতটা নতুন রূপে ফিরছেন।