বিশ্ব সংগীতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, মার্কিন রক ব্যান্ড ‘গ্রেটফুল ডেড’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং প্রখ্যাত গিটারিস্ট বব ওয়্যার আর নেই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে গায়কের ভেরিফাইড সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে এক বিবৃতির মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে। কিংবদন্তি এই শিল্পীর প্রয়াণে বিশ্বজুড়ে সংগীতপ্রেমী এবং তার লক্ষ লক্ষ ভক্তদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বব ওয়্যার গত বছরের জুলাই মাসে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে তিনি ক্যানসারকে জয় করলেও পরবর্তী সময়ে ফুসফুসজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই শারীরিক জটিলতার কাছে হার মেনে প্রিয়জনদের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই গিটার জাদুকর। পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে তাকে একজন ‘গল্পকার’ এবং ‘পথের গিটারিস্ট’ হিসেবে অভিহিত করে বলা হয়েছে, দীর্ঘ ছয় দশক ধরে তিনি তার সুরের মূর্ছনায় বিশ্ববাসীকে মুগ্ধ করে রেখেছিলেন।
বব ওয়্যারের সংগীত জীবন ছিল বর্ণাঢ্য এবং অনুপ্রেরণাদায়ী। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি জেরি গার্সিয়ার সাথে গ্রেটফুল ডেড ব্যান্ডের যাত্রা শুরু করেন। ১৯৯৫ সালে ব্যান্ডটি ভেঙে যাওয়ার পরও তিনি সংগীতের মায়াজাল থেকে নিজেকে দূরে রাখেননি। তিনি একের পর এক তৈরি করেছেন ‘দ্য আদার ওয়ানস’, ‘দ্য ডেড’, ‘র্যাটডগ’ এবং ‘বব ওয়্যার ব্যান্ড’-এর মতো জনপ্রিয় সব দল। মূলত রিদম গিটারিস্ট হিসেবে পরিচিত হলেও তার কণ্ঠে রক অ্যান্ড রোল এবং কান্ট্রি মিউজিক ছিল অনন্য।
সংগীতের এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৪ সালে তিনি ‘রক অ্যান্ড রোল হল অব ফেমে’ অন্তর্ভুক্ত হন। এমনকি ২০২৪ সালেও তিনি কেনেডি সেন্টার অনার্সে ভূষিত হয়েছিলেন। বব ওয়্যারের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শ্রদ্ধায় ভাসছেন তিনি। ভক্তদের মতে, বব ওয়্যার শুধু একজন সংগীতশিল্পীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন কয়েক প্রজন্মের কাছে একটি আদর্শ ও অনুভূতির নাম। তার রেখে যাওয়া সুর ও অমর গানগুলোই তাকে সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে বাঁচিয়ে রাখবে চিরকাল।