ভারতের বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় মুখ ঐন্দ্রিলা সেন একসময় এমন এক অন্ধকারের মুখোমুখি হয়েছিলেন, যা একরাশ সাহস এবং মানসিক শক্তি ছাড়া সম্ভব নয়। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে তিনি জীবনের সেই কঠিন সময়ের কথা শেয়ার করেছেন, যখন বাবা শান্তনু সেনের অকাল মৃত্যু তাকে এবং তার মাকে এমন এক পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছিল, যে সময়ে তারা আত্মহত্যার কথা ভাবতেও বাধ্য হয়েছিলেন।
২০১৫ সালে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা হারানো ঐন্দ্রিলার বয়স তখন মাত্র ২০। কলকাতার বেহালা শীলপাড়া এলাকায় মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হওয়া এই অভিনেত্রী এবং তার মা সম্পূর্ণরূপে বাবার উপর নির্ভরশীল ছিলেন। বাবার অকাল মৃত্যু তাদের জীবনের সব রুটিন একেবারে বদলে দেয়। ঐন্দ্রিলা স্মরণ করেন, ‘আমরা জানতাম না এটিএম থেকে কিভাবে টাকা তুলতে হয়, ইলেকট্রিক বিল কিভাবে দিতে হয়। বাজার করা বা কোথায় গহনা থাকে, সবই অজানা।’
শুধু অর্থনৈতিক নয়, মানসিকভাবেও সেই ক্ষতি ছিল অভাবনীয়। শ্মশানে বসে তিনি অনুভব করেছিলেন, বাবা নেই— যে সাহস, নিরাপত্তা এবং নির্ভরশীলতার প্রতীক ছিলেন তিনি। এতটাই বড় ধাক্কা ছিল, যে ঐন্দ্রিলা ও তার মা একটি সময় আত্মহননের কথাও ভেবে ফেলেছিলেন।
কিন্তু আজ ঐন্দ্রিলা শুধুই নিজের চরিত্র নয়, বরং তার অভিজ্ঞতার সঙ্গে শক্তিশালী এক ব্যক্তিত্বের উদাহরণ। তিনি বললেন, ‘অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে আমরা বেরিয়ে এসেছি। এই সময়ে আমরা শিখেছি, জীবন কতটা মূল্যবান।’
চলচ্চিত্রে তার পথ শুরু হয় ২০০৪ সালে রবি কিনাগীর নির্মিত ‘বন্ধন’ সিনেমার মাধ্যমে। আজ তিনি ব্যস্ত অভিনেত্রী—‘সাজঘর’ এবং ‘চন্দ্রবিন্দু’ সিনেমাসহ বহু প্রজেক্টে হাত আজও লেগে আছে। তার অভিনয় শুধুই মনোজ্ঞ নয়, বরং জীবনের কঠিন বাস্তবের সঙ্গে মিশে থাকা অভিজ্ঞতার প্রতিফলনও বয়ে আনে।
এই গল্প আমাদের শেখায়, কখনও কখনও জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার মুহূর্তগুলোই আমাদের শক্তি, সাহস এবং নতুন সূচনার পথে ঠেলে দেয়। ঐন্দ্রিলা সেন সেই সাহসের এক উদাহরণ।