বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান— নিখুঁত অভিনয়, বাছাই করা কাজ আর গম্ভীর উপস্থিতির প্রতীক। কিন্তু এবার দৃশ্যটা পুরো উল্টো। নিজের অফিসেই ঢুকে পড়েছেন এমন এক ‘আমির’, যাকে দেখে আসল আমিরও নাকি মুহূর্তের জন্য থমকে গিয়েছিলেন! সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ঘিরে এখন রীতিমতো হাসির রোল।
ভিডিওর শুরুটা একেবারে স্বাভাবিক। কমেডিয়ান ও নির্মাতা বীর দাস প্রবেশ করেন আমির খানের অফিসে। কিন্তু চেয়ারটিতে বসে থাকা মানুষটিকে দেখেই শুরু হয় বিভ্রান্তি। চেহারা, বসার ভঙ্গি, কথা বলার স্টাইল— সব মিলিয়ে হুবহু আমির খান! অথচ তিনি আসল নন। এই নিখুঁত ‘আমির’ আসলে জনপ্রিয় কৌতুকাভিনেতা সুনীল গ্রোভার।
প্রথমে খানিকটা অবাক হলেও সুনীলের অভিনয়ের জাদুতে পুরোপুরি আটকে যান বীর দাস। ‘আমির’ সেজে সুনীল তখন বীরকে অভিনন্দন জানাতে থাকেন তার প্রথম সিনেমা হ্যাপি পাটেল নিয়ে। প্রশংসার সঙ্গে সঙ্গে নাটকীয়তায় ভর করে মোটা অঙ্কের বোনাস চেক, আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা—
‘এই সিনেমা সুপারহিট হবেই। না হলে আমার নাম আমির খান নয়! অস্কারও পাবে!’
ঠিক তখনই দৃশ্যে ঢুকে পড়েন আসল আমির খান। নিজের নকলকে সামনে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি। কিন্তু কাণ্ডটা বাঁধে তখনই— বীর দাস উল্টো আসল আমিরকেই চিনতে পারেন না! বরং আঙুল তুলে বলেন, ‘উনিই তো সুনীল গ্রোভার!’
এতেই পরিস্থিতি রীতিমতো কমেডির চূড়ায়। নিরাপত্তারক্ষীদের ডাকা হয়। কিন্তু এখানেও টুইস্ট—সুনীল গ্রোভার তাদের হাতেও তুলে দেন মোটা অঙ্কের চেক। ফলাফল? বিভ্রান্ত নিরাপত্তাকর্মীরা টেনে-হিঁচড়ে অফিসের বাইরে বের করে দেন… আসল আমির খানকেই!
অবশ্য ভয় পাওয়ার কিছু নেই। পুরো ঘটনাই ছিল মজার ছলে বানানো একটি প্রচারমূলক ভিডিও। নেটফ্লিক্সের দ্য কপিল শর্মা শো এবং আমির খানের আসন্ন ছবি হ্যাপি পাটেল-এর প্রচারণার অংশ এটি। তবে ভিডিওটি যেভাবে দর্শকদের হাসিয়েছে, তাতে প্রচারণা যে সফল—তা বলাই বাহুল্য।
নিজেও দারুণ মজা পেয়েছেন আমির খান। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি এটাকে মিমিক্রি বলব না। অভিনয়টা এতটাই নিখুঁত ছিল যে মনে হচ্ছিল নিজেকেই দেখছি। আমি এত জোরে হেসেছি যে শ্বাস নিতে পারছিলাম না।’
বলিউডে প্রচারণার অভিনব কৌশল নতুন নয়। কিন্তু এই ভিডিও প্রমাণ করল— ঠিকঠাক কমেডি, নিখুঁত অভিনয় আর সামান্য আত্মপরিহাস মিললে কয়েক মিনিটের একটি ভিডিওও দর্শকদের মন জয় করে নিতে পারে। আর সেই তালিকায় সুনীল গ্রোভারের ‘আমিরি’ অভিনয় নিঃসন্দেহে জায়গা করে নিল।