শব্দের চেয়েও কখনো কখনো নীরবতা বেশি কথা বলে। ঠিক তেমনই এক নীরবতার ঢেউ তুলে ঢাকার মঞ্চে আসছে নতুন নাট্যদল ‘থেসপিয়ানস দ্য ঢাকা’-র প্রথম প্রযোজনা ‘দ্য সি অব সাইলেন্স’। তরুণ কিছু নাট্যকর্মীর স্বপ্ন, অনুসন্ধান আর নতুন ধারার থিয়েটার নির্মাণের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যাত্রা শুরু করা দলটির এই নাটক যেন এক আত্মিক সমুদ্রযাত্রা।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় উদ্বোধনী মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে দর্শকের সামনে উন্মোচিত হবে এই নাটক। পরের দিন আরও দুটি প্রদর্শনী—যেন দর্শকের জন্য সময়ের ঢেউয়ে ভেসে যাওয়ার একাধিক সুযোগ।
সমুদ্র, জাহাজ আর মানুষের ভেতরের ঝড়…
‘দ্য সি অব সাইলেন্স’-এর গল্প শুরু হয় ভিয়েতনামের হাইফোং বন্দর থেকে। লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করা একটি যাত্রীবাহী জাহাজ—যেখানে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের ভিড়। সেই ভিড়ের মাঝেই আছে ছোট্ট একটি পরিবার—সোফিয়া, তার স্বামী ডেভিড ও কিশোরী কন্যা জেনি। বাইরে শান্ত দেখালেও ভেতরে জমে থাকা স্মৃতি, ভয় আর গোপন অতীত ধীরে ধীরে নড়েচড়ে বসে এক ঝোড়ো রাতে।
সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ, আকাশের ভারী মেঘ আর একটি মাউথঅর্গানের সুর—সব মিলিয়ে সম্পর্কের সীমানা ঝাপসা হয়ে যায়। জাহাজের দোলার সঙ্গে সঙ্গে দুলতে থাকে মানুষের মনও। ভালোবাসা, সন্দেহ, অপরাধবোধ আর মুক্তির আকাঙ্ক্ষা—সব মিলিয়ে গল্পটি হয়ে ওঠে মানুষের আত্মার এক গভীর যাত্রা।
নাটকটির রচয়িতা ও নির্দেশক তাজউদ্দিন তাজু-র কাছে এই নাটক কোনো চমকপ্রদ রহস্য নয়। তাঁর ভাষায়, এটি পাপ থেকে অনুতাপ, আর অনুতাপ থেকে মুক্তির পথে মানুষের আত্মার হাঁটা। মঞ্চ, আলো, শব্দ, কস্টিউম ও প্রপস—সব উপাদান মিলিয়ে তিনি দর্শকের সামনে এক ‘স্বপ্নের বাস্তবতা’ তৈরি করতে চেয়েছেন। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভাবনা—এই নাটকে সমুদ্র নিজেই একটি চরিত্র।
থেসপিয়ানস দ্য ঢাকা’র এই প্রথম প্রযোজনায় অভিনয় করেছেন তাজউদ্দিন তাজু ছাড়াও অরুণা সিক্ত সাচী, কাজী আমিন, নুসরাত রেজা খান, সুলায়হা তারজিয়া, মাহাফুজ মুন্না, ফরহাদ আহমেদ শামীমসহ একদল তরুণ শিল্পী। তাঁদের অভিনয়ের মধ্য দিয়েই ফুটে উঠবে স্মৃতি আর নীরবতার গভীর ভাষা।
যান্ত্রিক শহরের কোলাহলে দাঁড়িয়ে ‘দ্য সি অব সাইলেন্স’ যেন দর্শককে একটু থামতে বলে—নিজের ভেতরের সমুদ্রের দিকে তাকাতে শেখায়। নতুন দলের প্রথম প্রযোজনা হিসেবে এই নাটক শুধু একটি মঞ্চায়ন নয়, বরং ঢাকার থিয়েটার অঙ্গনে নতুন ভাবনার এক সাহসী সূচনা।