হলিউডের ইতিহাসে এমন মুহূর্ত খুব বেশি আসে না, যখন কোনো অর্জন কেবল সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না—বরং হয়ে ওঠে প্রতিনিধিত্ব, সংগ্রাম আর স্বপ্নপূরণের প্রতিচ্ছবি। ঠিক তেমনই এক ইতিহাস গড়েছেন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী জো সালদানা। আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এখন বিশ্বের সর্বোচ্চ আয়কারী অভিনেত্রী— আর এই রেকর্ডের পেছনে রয়েছে তার অভিনীত সর্বশেষ ছবি ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’-এর বিপুল সাফল্য।
সালদানার ক্যারিয়ার যেন বক্স অফিসের একের পর এক মাইলফলক ছুঁয়ে চলা যাত্রা। তিনি অভিনয় করেছেন বিশ্বের তিনটি সর্বোচ্চ আয়কারী ছবিতে—
অ্যাভাটার (২০০৯),
অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার (২০২২),
অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম (২০১৯)।
এখানেই থেমে নেই। ২০১৮ সালের অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়্যার যুক্ত হওয়ায় তিনি প্রথম নারী অভিনেত্রী, যিনি চারটি ছবিতে দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করা প্রজেক্টের অংশ ছিলেন।
২০২৪ সাল পর্যন্ত তার চলচ্চিত্রগুলোর মোট আয় ছিল ১৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি। কিন্তু ডিসেম্বর মাসে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ একাই ১.২৩ বিলিয়ন ডলার আয় করায়, সালদানার মোট বক্স অফিস সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ১৫.৪৭ বিলিয়ন ডলার—যা তাকে সবার শীর্ষে তুলে এনেছে।
জো সালদানার অভিনয় মানেই কেবল সাফল্য নয়, বরং শক্তিশালী চরিত্রের ছাপ।
অ্যাভাটার সিরিজে নাভি যোদ্ধা নেইতিরি,
মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সে গামোরা,
স্টার ট্রেক ত্রয়ীতে লেফটেন্যান্ট উহুরা—
এই তিন চরিত্রই আধুনিক পপ কালচারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশেষ করে অ্যাভাটার-এ পারফরম্যান্স ক্যাপচার প্রযুক্তির মাধ্যমে তার অভিনয় নতুন মাত্রা পেয়েছে।
রেকর্ড গড়ার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় সালদানা বলেন, ‘এই অসাধারণ যাত্রার জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয়কারী অভিনেত্রী হিসেবে এখানে দাঁড়াতে পারাটা একক কোনো অর্জন নয়।’
তিনি ধন্যবাদ জানান স্টার ট্রেক–এর জে. জে. অ্যাব্রামস, অ্যাভেঞ্জার্স–এর জো ও অ্যান্থনি রুসো, গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি–এর জেমস গান এবং বিশেষভাবে অ্যাভাটার নির্মাতা জেমস ক্যামেরনকে। ভক্তদের উদ্দেশে তার বার্তা ছিল সরল কিন্তু শক্তিশালী— ‘আপনারা ছাড়া এই সাফল্য সম্ভব হতো না। এটি আমাদের সবার।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এই রেকর্ড আবারও কোনো নারী শিল্পী ভাঙবেন।
২০২৫ সাল সালদানার জন্য ছিল আরও স্মরণীয়। মার্চ মাসে ‘এমিলিয়া পেরেজ’ ছবিতে সহকারী অভিনেত্রী বিভাগে অ্যাকাডেমি পুরস্কার (অস্কার) জিতে তিনি ইতিহাস গড়েন— প্রথম ডোমিনিকান-আমেরিকান হিসেবে। সেই বছর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসব ও পুরস্কারেও তিনি প্রশংসিত হন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির প্যাসাইকে জন্ম নেওয়া জো সালদানার শৈশবের বড় অংশ কেটেছে নিউইয়র্কের কুইন্সে। পুয়ের্তো রিকান মা ও ডোমিনিকান বাবার ঘরে জন্ম নেওয়া সালদানা ঘরে স্প্যানিশ ভাষায় বড় হয়েছেন। মাত্র ৯ বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর পরিবারসহ তিনি চলে যান ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে। সেখানেই নৃত্যের প্রশিক্ষণ নেন—যা তার শারীরিক অভিব্যক্তিনির্ভর অভিনয়ের শক্ত ভিত তৈরি করে।
১৭ বছর বয়সে নিউইয়র্কে ফিরে থিয়েটার দিয়ে শুরু, তারপর ল অ্যান্ড অর্ডার-এ ছোট চরিত্র, সেন্টার স্টেজ (২০০০) দিয়ে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ— এই দীর্ঘ যাত্রা ২০০৯ সালে এসে মোড় নেয় স্টার ট্রেক ও অ্যাভাটার-এর যুগল সাফল্যে।
সালদানা ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি ফিরতে পারেন অ্যাভাটার ৪ (ডিসেম্বর ২০২৯) ও অ্যাভাটার ৫ (ডিসেম্বর ২০৩১)-এ। অর্থাৎ বক্স অফিসে তার রাজত্বের গল্প এখানেই শেষ নয়।