ভারতের সংগীতাঙ্গনে তিনি এক বিস্ময়। অস্কারজয়ী সুরকার, বিশ্বসংগীতের দূত, অসংখ্য কালজয়ী গানের স্রষ্টা।এই সব পরিচয়ের মাঝেও আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে এআর রহমান। সামাজিক মাধ্যম থেকে আদালতের অন্দর। সবখানেই এখন তার নাম উচ্চারিত হচ্ছে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগকে ঘিরে।
সম্প্রতি ভারতের প্রখ্যাত ধ্রুপদী সংগীতশিল্পী উস্তাদ ফায়াজ ওয়াসিফুদ্দিন সাগর সুপ্রিমকোর্টে রহমানের বিরুদ্ধে গান চুরির অভিযোগে মামলা করেছেন। অভিযোগ, রহমান ‘বীর রাজা বীর’ গানে তার লেখা পুরোনো ‘শিব স্তুতি’র একটি অংশ ব্যবহার করেছেন যথাযথ স্বীকৃতি ছাড়া।
‘বীর রাজা বীর’ গানটি রয়েছে Ponniyin Selvan: II সিনেমায়, যা পরিচালনা করেছেন মণিরত্নম। ছবিটি মুক্তির পর গানটি শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। কিন্তু জনপ্রিয়তার মাঝেই উঠেছে মৌলিকতার প্রশ্ন।
ভারতের সুপ্রিমকোর্টে মামলার শুনানিতে বিচারপতিরা জানতে চান, আসল সুরকার কে, তার প্রমাণ কী? শুধু গাওয়া বা পরিবেশন করলেই কি কেউ গানের স্রষ্টা হয়ে যান? সুরের মালিকানা প্রমাণের জন্য প্রয়োজন যথাযথ দলিল ও প্রেক্ষাপট; এমন মন্তব্যও উঠে আসে আদালত থেকে।
রহমানের আইনজীবী অবশ্য দাবি করেছেন, তার মক্কেল কখনো অন্যের কৃতিত্ব নিজের নামে নেন না। বরং তিনি নিজের সৃষ্টিকে যথাযথভাবে দাবি করেন এবং আইনি প্রক্রিয়ায় সব ব্যাখ্যা দেবেন।
পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ২০ ফেব্রুয়ারি। সেই দিনই হয়তো পরিষ্কার হবে বিতর্কের পরবর্তী গতি।
আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমেও চলছে তুমুল আলোচনা। এক পক্ষ বলছে, রহমানের মতো সুরকারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অন্য পক্ষ বলছে, শিল্পী যত বড়ই হোন, মৌলিকতার প্রশ্নে কারও ছাড় নেই।
এটি অবশ্য রহমানকে ঘিরে প্রথম বিতর্ক নয়। এর আগেও তার মন্তব্য বিকৃত করে প্রচার, রাজনৈতিক মহলের সমালোচনা কিংবা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গুঞ্জন।সব মিলিয়ে তাকে বহুবার ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে।
এই বিতর্কের শেষ কোথায়, তা সময়ই বলবে। এখন অপেক্ষা আদালতের রায়ের।