বাংলা চলচ্চিত্রের আলো যেন একটু ম্লান। প্রেক্ষাগৃহ কমছে, দর্শক সরে যাচ্ছে, পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক থামছে না। এমন সময়ে ঢালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা শাকিব খান সামনে আনলেন আশার কথা।সিনেমার সুদিন ফেরাতে চাই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা আর রাষ্ট্রীয় সহায়তা।
নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি তার আহ্বান শুধু একজন অভিনেতার ব্যক্তিগত চাওয়া নয়, বরং পুরো শিল্পের পক্ষ থেকে এক ধরনের আর্তি।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন রয়েছে। কে পাচ্ছেন, কেন পাচ্ছেন, এ নিয়ে বিতর্ক থামেই না। শাকিবের মতে, পুরস্কার যেন প্রকৃত শিল্পী ও নির্মাতার মেধার স্বীকৃতি হয়, সেটিই সবচেয়ে জরুরি।
তিনি চান নির্দিষ্ট মানদণ্ড, স্বচ্ছ বিচারপ্রক্রিয়া এবং বাইরের হস্তক্ষেপহীন একটি কাঠামো। কারণ, সম্মান যখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তখন শিল্পীর মনোবলও ভেঙে যায়। আর মনোবল ভেঙে গেলে সৃজনশীলতাও হারায় ধার।
সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্র নির্বাচন নিয়েও রয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। শাকিবের প্রস্তাব; স্বচ্ছ কমিটি, অনলাইন স্কোরিং পদ্ধতি এবং প্রকাশ্য রিপোর্টিং ব্যবস্থা চালু করা।
তার বিশ্বাস, এতে প্রকৃত নির্মাতারা উৎসাহ পাবেন। যারা ভালো গল্প, নতুন ভাবনা আর আন্তর্জাতিক মানের নির্মাণ নিয়ে কাজ করতে চান, তাদের জন্য তৈরি হবে সমান সুযোগের মঞ্চ।
এক সময় সিনেমা মানেই ছিল পরিবারের সাপ্তাহিক বিনোদন। এখন অনেক জেলাতেই নেই কোনো প্রেক্ষাগৃহ। কোথাও আছে ভাঙাচোরা হল, কোথাও প্রযুক্তির অভাব।
শাকিব প্রস্তাব দিয়েছেন নতুন প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ, বন্ধ হল সংস্কারে স্বল্পসুদে ঋণ, করছাড় এবং পুনর্গঠন তহবিল গঠনের। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে আধুনিক মাল্টিপ্লেক্স গড়ে তোলার কথাও বলেছেন তিনি।
ডিজিটাল প্রজেকশন, ডলবি সাউন্ড, অনলাইন টিকিটিং; এসব সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে দর্শকের অভিজ্ঞতা বদলে যাবে বলেই মনে করেন তিনি। পরিবারবান্ধব কনটেন্ট ও প্রদর্শন কোটা শুধু অবকাঠামো নয়, কনটেন্টেও প্রয়োজন পরিবর্তন। পরিবার নিয়ে দেখার মতো গল্প, সামাজিক বার্তা, বিনোদনের সঙ্গে মানবিকতা। এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শাকিব।
দেশীয় চলচ্চিত্রের জন্য নির্দিষ্ট প্রদর্শন কোটা এবং উৎসবভিত্তিক বিশেষ প্রদর্শনী চালু হলে দর্শক আবারও হলমুখী হবে বলে তার বিশ্বাস।