সম্প্রতি একটি পোশাকের দোকানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে খোলামেলা মন্তব্য করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস। নিজের ক্যারিয়ার, ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান অবস্থা এবং নানা বিতর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি ঢালিউডকে ‘ডাস্টবিন’ বলে মন্তব্য করেন। তার এই বক্তব্য ঘিরে ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অপু বিশ্বাস বলেন, তিনি যখন চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন, তখন ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশ ছিল অনেক ভিন্ন। ২০০৭-২০০৮ সালের দিকে তিনি ঢালিউডে পা রাখেন এবং সেই সময় একটি পূর্ণাঙ্গ ও সুস্থ চলচ্চিত্র পরিবেশ দেখেছিলেন বলে জানান। তার মতে, সেই সময় দর্শকেরা সিনেমা দেখতেন এবং শিল্পীদের কাজকে ভালোবেসে ভক্ত হয়ে উঠতেন।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিবেশ বদলে গেছে বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী। বিশেষ করে ২০১৬ সালের পর থেকে ইন্ডাস্ট্রিতে নানা ধরনের তিক্ততা, বিভাজন এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ বেড়ে গেছে বলে তার দাবি। অপু বিশ্বাসের ভাষায়, ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে এত নেতিবাচকতা ও নোংরামি তৈরি হয়েছে যে সেটি অনেক সময় ‘ডাস্টবিন’-এর মতো মনে হয়।
তার বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের দ্বন্দ্ব ও পক্ষ-বিপক্ষ রাজনীতির দিকে। অপু বিশ্বাস বলেন, চলচ্চিত্র জগতে মতভেদ বা দলাদলি থাকতেই পারে। বিশ্বের বড় বড় চলচ্চিত্র শিল্পেও এসব দেখা যায়। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলিউড ও হলিউডের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানেও বিভিন্ন পক্ষ আছে, কিন্তু কাজের জায়গায় সবাইকে নিয়েই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা থাকে।
এই প্রসঙ্গে পাশের দেশের টলিউডের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, সেখানে মতবিরোধ থাকলেও শিল্পীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা দেখা যায়। কিন্তু ঢালিউডে অনেক সময় ব্যক্তিগত বিরোধই বড় হয়ে ওঠে, যা পুরো ইন্ডাস্ট্রির জন্য নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করে।
কথোপকথনের এক পর্যায়ে নিজের ব্যক্তিগত জীবন এবং পেশাগত পথচলার কথাও স্মরণ করেন অপু বিশ্বাস। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি অনেক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছেন। বিশেষ করে অভিনেতা শাকিব খান-এর সঙ্গে তার সম্পর্ক, বিয়ে এবং বিচ্ছেদ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরেই আলোচনায় ছিলেন তিনি। সেই সময়গুলোতেও ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের নানা প্রতিক্রিয়া কাছ থেকে দেখেছেন বলে জানান এই অভিনেত্রী।
সব মিলিয়ে অপু বিশ্বাসের এই মন্তব্য যেন ঢালিউডের বর্তমান বাস্তবতার এক তিক্ত প্রতিফলন হিসেবেই সামনে এসেছে। তার মতে, চলচ্চিত্র অঙ্গন যদি আবার সুস্থ পরিবেশে ফিরতে পারে, তবে শিল্পী, নির্মাতা এবং দর্শক; সবার জন্যই সেটি হবে ইতিবাচক একটি পরিবর্তন।